প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
(ভিজিট : ২০)
বিদেশে পাঠিয়ে স্বপ্ন দেখানোর নামে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছিল ১১টি পরিবারকে। অবশেষে সেই মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম মেট্রো।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের দুলাল দেওয়ান (৫৫) এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার মো. জামালকে (৫০)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকার মাতুয়াইলের বাসিন্দা মো. সাগরসহ মোট ১১ জন ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে বিভিন্ন আসামির সঙ্গে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী কয়েকজন অগ্রিম টাকাও পরিশোধ করেন। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
গত ৪ এপ্রিল ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১১ জনকে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানাধীন একে খান এলাকার হোটেল মেরিন ও হোটেল রোজ ভিউতে রাখা হয়। দুই দিন পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ঘাটের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।
তবে হালিশহর থানার ওয়াপদা মোড় এলাকায় টহল পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমে আসামিরা দাবি করে, ভুক্তভোগীদের কক্সবাজার বেড়াতে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা ফাঁস করে দেন ভুক্তভোগীরাই—জানান, তাদের মানবপাচার করা হচ্ছিল।
এ সময় আবদুর রহমান নামের একজনকে নয়টি পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার করা হলেও তানজিম হোসেন সাগর নামের আরেকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী সাগরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হালিশহর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশে মামলা দায়ের করা হয়। গত মে মাসে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে টাকা আদায় করে, এরপর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাঠিয়ে লিবিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ পর্যন্ত আদায় করা হয়।
চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি বা অভিবাসনের প্রলোভনে পা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।