সৌদি আরবে হুথিদের নতুন করে হামলা এবং উপসাগরে ইরানের সামরিক তৎপরতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ থাকায় সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের অক্টোবরের ফিউচার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ দশমিক ৬৮ ডলার।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট জানিয়েছে, সোমবার হুথি বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে।
এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি উন্নত মার্কিন ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে। উপসাগরে মার্কিন চালকবিহীন নৌযানের বিরুদ্ধে তেহরানের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে এই ঘটনা ঘটল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে, দেশটির তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা
তেলের পাইপলাইনে হামলা এবং সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন শ্রী-কুমার গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট কোমল শ্রী-কুমার।
সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তেলের অবকাঠামোয় হামলা এবং সৌদি পাইপলাইন বন্ধ থাকার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
এর সঙ্গে চলমান শুল্কযুদ্ধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, শুল্কযুদ্ধ দ্রুত বাড়তে থাকায় পণ্যের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হবে। এর প্রভাব বন্ডের সুদের হারেও পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলা, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা এবং তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এসব সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বাড়বে।
এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।