প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
(ভিজিট : ৬)
সান সিরোতে ভক্তদের এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চ ও নাটকে ঠাসা রাত উপহার দিল ইন্টার! ইতালিয়ান সিরি আর মঞ্চে নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পর মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দলের জালে জড়াল মোট ৫ গোল। নাপোলির কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানের এক চোখধাঁধানো জয় ছিনিয়ে নেয় ইন্টার মিলান।
আর এই মহাকাব্যিক রূপকথার মূল নায়ক জোড়া গোল করা আর্জেন্টাইন তারকা লাউতারো মার্তিনেজ।
সান সিরোয় প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি এগোচ্ছিল সমতার দিকেই। কিন্তু বিরতির পরই খোলস ছেড়ে বের হয় নাপোলি। ম্যাচের বিরতির পরপরই মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে মাত্তেও পলিতানো ও রাসমুস হয়লুন্দের লক্ষ্যভেদে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে স্বাগতিক ইন্টারকে স্তব্ধ করে দেয় সফরকারীরা।
তবে ধাক্কা খেয়েই আসল রূপ দেখায় ইন্টার মিলান। ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে মোট ২৯টি শট নিয়ে নাপোলির রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় স্বাগতিকরা। ৫৬তম মিনিটে লাউতারোর প্রথম গোলে প্রত্যাবর্তনের দামামা বাজায় ইন্টার। এরপর ফরাসি ফরোয়ার্ড মার্কাস থুরামের এক নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে দল।
ম্যাচের নাটকীয়তার তখনো বাকি ছিল! নির্ধারিত সময় শেষের পর অতিরিক্ত সময়ে সান সিরোকে উন্মাদনায় ভাসিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন সেই লাউতারো মার্তিনেজ।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠে জন্ম নেয় আরো এক দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত। গোল করেই লাউতারো দৌড়ে গিয়ে গ্যালারির বিজ্ঞাপনী বেষ্টনীর ওপর উঠে উন্মত্ত স্বাগতিক সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন। অবাক করা বিষয় হলো, সাধারণত এসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলা লাউতারোর আক্রমণভাগের সঙ্গী মার্কাস থুরামও এবার লাফিয়ে সেখানে উঠে যোগ দেন এই উদযাপনে!
ম্যাচ শেষে হাসিমুখে ইন্টার অধিনায়ক লাউতারো বলেন, ‘মার্কাস আজ আমার সঙ্গে গ্যালারির উঁচুতে যোগ দিয়েছিল। ও সব সময় আমাকে বলত, ওখানে ওঠার জন্য আমি নাকি পাগল, কারণ ও নিজে কখনো উঠতে চাইত না! কিন্তু আজ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি, আমার সঙ্গেই উঠে পড়েছিল।’