বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন না করার ক্ষতি পোষাতে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্টগুলোতে ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এ ক্ষেত্রে প্রতি ক্রিকেটারের জন্য বাড়তি ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভাতেই পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়। এর মাত্র পাঁচ মাস পর আবারও পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিসিবির আয়োজনে বর্তমানে চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো—প্রথম শ্রেণির জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ, বিসিএল ওয়ানডে এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টি।
ক্রিকেটারদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই চার টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একজন ক্রিকেটারকে বাড়তি ৩০ লাখ টাকা আয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুধু একটি মৌসুমের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও এই সুবিধা কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রথম শ্রেণির দুই টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ম্যাচ ফি ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ৭৫ হাজার টাকা থেকে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। এবার এর চেয়েও বড় পরিসরে ম্যাচ ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
এদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর আদলে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দুটি করে দল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটারের সংখ্যাও বাড়বে। ফলে সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রিকেটারকে কীভাবে আর্থিকভাবে সুবিধা দেওয়া যায়, সেটিই বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছেন খেলোয়াড়রা।
দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ভবিষ্যতে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড়কে আর্থিকভাবে উপকৃত করাই তাদের লক্ষ্য। টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে এমন পর্যায়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে একজন ক্রিকেটার সারা বছর স্বচ্ছন্দে চলতে পারেন।
মিঠুন আরও জানান, ক্রিকেটারদের প্রস্তাবে বিসিবি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং খুব শিগগিরই বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ক্রিকেটারদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিসিবির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। তবে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বোর্ড। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা দাবি না জানালেও তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা বোর্ডের ছিল।
তিনি বলেন, বছরে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো খেলেই যাতে একজন ক্রিকেটার ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বিসিবি। ক্রিকেটের অবকাঠামো ও ক্রিকেটারদের উন্নয়নে বর্তমান বোর্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে আর্থিক চাপের বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন সিরাজউদ্দিন আলমগীর। তার মতে, পুরনো তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি বড় সমস্যা হবে না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে যদি ১৫ কোটি টাকা আয় হয়, সেখান থেকে ক্রিকেটারদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করতেও বোর্ডের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।