প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৭ এএম
(ভিজিট : ১৫)
শুরুটা ছিল কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহের নিচে চাপা পড়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৪১ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। শেষ দিনে তাঁর ব্যাটেই বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।
আগের দিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন হৃদয়। বুধবার চতুর্থ দিনে সেই ইনিংসকে আরও বড় করে গড়েন ইতিহাস। ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পরও থামেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৮১ বলে অপরাজিত ৩৫০ রান করে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও নিজের করে নেন হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন। রকিবুল করেছিলেন ৩১৩ এবং তামিম করেছিলেন অপরাজিত ৩৩৪ রান।
ট্রিপল সেঞ্চুরির পরও ইনিংস চালিয়ে যান হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ৪৮১ বলে ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা। হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ ৬৭৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ পায় ১৬৪ রানের লিড।
হৃদয়ের দুর্দান্ত ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তাঁর সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন জাকের। ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।
এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৮৫ রান। ১৭১ বলে ৮৭ রান করে এই জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাইফউদ্দিন।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। তখন ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। চতুর্থ দিনে নাঈম হাসান ও হাসান মুরাদ দ্রুত ফিরে গেলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। পরে মুশফিক হাসান ও রেজাউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসকে আরও বড় করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। লেসেগো সেনোকওয়ানের ১১১ ও সিনেথেম্বা কেশিলের ১২৮ রানের পাশাপাশি গ্যাভিন কাপলানও সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে থামেন ৯৭ রানে।
শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের অপরাজিত ৩৫০ রানের সুবাদে ৬৭৬/৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ ‘এ’। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনের বাকি সময়ে ম্যাচ জেতার বাস্তব সুযোগ পায়নি। ম্যাচটি ড্র হয়।
হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংস শুধু দেশের বাইরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ডই গড়েনি, তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও গড়েছে।