চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিকেএমইএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে নিটওয়্যার শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং এ পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত ২০ জুলাই থেকে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্য থাকায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, ১০ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই সময় থেকে আবার গ্যাস নেই। মাঝখানে মাত্র দুই দিন গ্যাস পেয়েছি, এরপর আবার সরবরাহ বন্ধ।’
অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার শঙ্কা
গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে বলে জানান মোহাম্মদ হাতেম। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না—এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন বন্ধ, বায়ারদের চাপ। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে অর্ডার অন্য জায়গায় শিফট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কী করবে কেউ ভেবে পাচ্ছে না।’
বিকেএমইএর ছয় দফা দাবি
গ্যাস সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বিকেএমইএর ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, সংকটের কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং সংকটকালীন সময়ে শিল্প মালিকদের করণীয় বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া।
এ ছাড়া পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়মিত জানাতে প্রতি সপ্তাহে সরকারি ব্রিফিংয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ এবং অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
বিকেএমইএ বলছে, তিতাসের হিসাবে সিস্টেম লসের পরিমাণ ৮ থেকে ১০ শতাংশ। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের গ্যাস অপচয় বা চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।
৩০০ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ
গ্যাস সংকটে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। একই সময়ে ক্রেতারা অর্ডার অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
তার দাবি, এ সংকটে প্রায় ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংকট চলাকালে প্রায় ৩০০টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় সংকটের মধ্যে ছিলাম। তবে এত বড় সংকট কখনো মোকাবিলা করতে হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহসভাপতি মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল ও সহসভাপতি আশিকুর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।