বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকটের জন্য আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো দায়ী এবং সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভোক্তাদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ড. জাহেদ বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগ বাস্তব।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চলমান পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা ও আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. জাহেদ বলেন, সরকার জনগণের ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি বুঝতে পারছে। তবে বর্তমান সরকারকে এককভাবে এই সংকটের জন্য দায়ী করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘এর জন্য আমাদের দায়ী করা ঠিক নয়।’ তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া সমস্যার কারণেই বর্তমান গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে; বর্তমান সরকার এটি তৈরি করেনি।
ড. জাহেদ জানান, বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি দুটি এলএনজিভিত্তিক প্ল্যান্ট চালু থাকার পরও এই ঘাটতি রয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং দেশের স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান সম্প্রসারণ করা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে দেশের স্থলভাগে ৪০ ট্রিলিয়ন থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। বর্তমানে দেশে বছরে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
এ কারণে দেশে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
ড. জাহেদ বলেন, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় রাতারাতি এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
চলমান গ্যাস সংকটের কারণে দেশের আবাসিক ও শিল্প খাত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।