বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এবারের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন প্রত্যাশা”। প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা, সম্ভাবনা এবং তাদের দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্প।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো তারুণ্য। সঠিক দিকনির্দেশনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে যুবসমাজ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। তিনি যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিবৃন্দ, যুবক-যুবতী ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজের সামনে যেমন রয়েছে নানা সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণদের এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচনায় আরও উঠে আসে—যুবসমাজ শুধু আগামী দিনের নেতৃত্ব নয়, বরং বর্তমান সময়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মশক্তিকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ব্যতিক্রমী সমাপ্তি
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব উপকরণ হিসেবে প্রত্যেককে একটি করে পাটের ব্যাগ ও একটি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে একদিকে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তারা বলেন, যুবসমাজকে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন প্রত্যাশা” যেন মোরেলগঞ্জের তরুণদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দেয়—দক্ষতা, কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই শেষ হয় অনুষ্ঠান।