প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
(ভিজিট : ১৬)
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর আজ। প্রায় এক মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের আজকের দিনে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ছাত্রদের সেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজের তারকারাও। ৫ আগস্ট বিজয়র দিনে আনন্দ-উল্লাসে রাজপথে নেমে এসেছিলেন অনেকে।
৫ আগস্টকে দুইটা সময়ে ভাগ করব আমি। সেনাপ্রধানের ভাষণের আগে পর্যন্ত সময় একরকম, আর সেনাপ্রধানের ভাষণ থেকে শুরু করে বাকিটা সময় আরেকরকম। সকালে বাসা থেকে একদমই অ্যালাও করছিল না বের হওয়াটা। কারণ কারফিউ ছিল এবং আমার বাবার ধারণা ছিল যে হয়তো আর্মি অ্যাকশনে গেলে দেখামাত্র গুলি করবে। আমি তারপরও বের হয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, এতগুলো মানুষকে বললাম, আপনারা রাস্তায় আসেন, তারপর আমি ৫ তারিখে গেলাম না, এটা আমার জন্য ভালো দেখায় না। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মনে হয়েছে, ওইদিন সকালে আমার বের হওয়া উচিত।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বের হলাম। মিরপুর ১০ থেকে কালশী ফ্লাইওভার পর্যন্ত পুরাটা হেঁটে গেলাম। দেখলাম লক্ষ লক্ষ মানুষ চারিদিক থেকে আসছে। তখন এর একটা আলাদা অনুভূতি ছিল। ভয় ছিল, শঙ্কা ছিল এবং অনেক টেনশন হচ্ছিল সবার জন্য, এখন যদি গুলি স্টার্ট করে, কী হবে!
দুপুর সাড়ে ১২টা বা ১টার দিকে যখন জানতে পারলাম সেনাপ্রধান ভাষণ দেবেন, তখনই এক ধরনের রিলিফ অনুভব করছিলাম; কিছু একটা বুঝি হয়েছে! তারপরে তো জানলাম যে স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। তখন রাস্তায় আবার আরেকটা দৃশ্য! সবাই চিৎকার করছে, কান্না করছে, হাসছে, কোলাকুলি করছে। সবাই এসে আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে; ওইটা একটা আলাদা ফিল ছিল।
এরপর আমি সারা শহর রিকশা নিয়ে ঘুরেছি। এক রিকশাওয়ালা আমাকে সারা শহর ঘুরিয়েছেন। শাহবাগে গেলাম, শহীদ মিনারে গেলাম, গণভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে পারলাম না। লাস্টে খামারবাড়িতে এসে আমাদের গ্রুপের সবার সাথে দেখা হলো। তারপর বাইক রাইড নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বাসায় ফিরলাম। সবাই যেভাবে উদযাপন করছিল শেখ হাসিনার চলে যাওয়াটা, সেটা দেখার মতো জিনিস ছিল। মানে এটা ‘ওয়ান্স ইন আ লাইফটাইম’ অভিজ্ঞতা।