প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
(ভিজিট : ২৭)

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, এ অভিযানে একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আল-রিফা এলাকায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযান আরও সহজ করতে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছে আইআরজিসি। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ব্যবস্থা এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও হামলা হয়েছে। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে অথবা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের দাবি।
পরে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, একটি এফপিএস-১১৭ রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এসব স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনার আগে এ অঞ্চলের রাডার নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীও পৃথকভাবে জানিয়েছে, তারা ‘কামিকাজে ড্রোন’ ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয়কারী অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে সেনাসদস্যদের আবাসন লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।