চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ মামলার রায় দেন। আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে আসামির বিরুদ্ধে মোট আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও ধার্য হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার বাসিন্দা শিশু ইরার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটমচালক। স্থানীয় স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। পুলিশের তথ্যমতে, প্রতিবেশী বাবু শেখের সঙ্গে ইরার বাবার পারিবারিক বিরোধ ছিল, যার জেরে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান বাবু শেখ, এরপর বাসযোগে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে।
সেদিনই স্থানীয় সড়ক মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা শিশুটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ ইরার মৃত্যু হয়।
৩ মার্চ দুপুরে কুমিরা এলাকা থেকে গাইবান্ধার বাসিন্দা বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ আসামিকে শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মামলাটি দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ১১ জুন অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ, ১৮ জুন অভিযোগ গঠন হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ২ জুলাই মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারিত হয়।
ইরার মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে আর কখনো ফিরে পাবেন না তিনি, তবে আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টসহ সব প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং এই রায় ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে