প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:১০ পিএম
(ভিজিট : ৭)
ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বাসিন্দারা। ভবনধসের আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা পার্ক, উন্মুক্ত চত্বর ও খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন।
কারাকাস থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক মারিয়া এমিলিয়া মিরো কেসাদা বলেন, ভূমিকম্পের পর মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকেই জানেন না তাদের ভবন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে নিজেদের বাসায় ফিরতে ভয় পাচ্ছেন তারা। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
মিরো কেসাদার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা। তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দিতে হবে, যাতে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা এবং আহত ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা যায়।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযান আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত সরঞ্জাম দ্রুত মোতায়েনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারলোস আলভ্যারাডো জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অনেক মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'দুঃখজনকভাবে অন্তত ২৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন, আবার কেউ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই প্রাণ হারিয়েছেন।'