প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম (ভিজিট : ১৯)
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণের পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি দিয়েছে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা। ফলে পরিবহনে লোড-আনলোড হচ্ছে না ভারত ও ভুটান থেকে আমদানিকৃত পাথর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে এ বন্দরের কার্যক্রম। এদিকে কর্মবিরতির পর প্রশাসনের সহায়তায় মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক চলাকালে দুপুরে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকরা রাস্তায় মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আমাদের মজুরি বাড়েনি। অন্যান্য স্থলবন্দরে লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হলেও বাড়ানো হয়নি নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিকদের মজুরি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি দেওয়া হলে প্রশাসনের সহায়তায় দুইপক্ষের মাঝে দুপুরে বৈঠক শুরু হয়। এ সময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দেওয়ায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আমদানিকারক নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে লোড-আনলোডে বেশি মজুরি দেওয়া হয়। বর্তমানে যে মজুরি দাবি করা হচ্ছে তা অযৌক্তিক। এসময় তারা এ কর্মবিরতিকে স্থলবন্দর অচল করার ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন।
নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ জানান, তেলের দাম বাড়ার পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে চিঠি দিয়ে আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাই। এতে সাড়া না পেলে গত ৮ জুন চিঠির মাধ্যমে আবারও আমরা মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশকিছু দাবি-দাওয়া উল্লেখ করি। এতেও সাড়া না পেলে আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা কর্মবিরতিতে যাই। দুপুরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সহায়তায় আমদানিকারকদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক শুরু হলে আমদানিকারকরা আমাদের চাঁদাবাজ বলেন। ফলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয় এবং বৈঠক ভেঙে যায়। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। একটি সিন্ডিকেটের হাতে স্থলবন্দর জিম্মি।
নাকুগাঁও আমদানি-রফতানীকারক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, শ্রমিকদের দাবি আমরা সবসময় সহানুভূতির
সঙ্গে বিবেচনা করি। তবে এবার তারা যে দাবি জানিয়েছে তা অযৌক্তিক। অন্যান্য বন্দরের মতোই আমরা মজুরি দিয়ে থাকি। কর্মবিরতির ফলে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হতে বসেছে। লোড-আনলোডের বাইরে অন্যান্য শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর পেছনে কোনো অশুভ শক্তি কাজ করছে বলে আমাদের ধারণা।