তফসিল ঘোষণা না হলেও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন- এমন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ মাঠে নেমেছেন। নগরীজুড়ে ব্যানার- পোস্টারও লাগিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই গণসংযোগ এমনকি উঠান বৈঠকও করছেন তারা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতেও চলছে নানান কর্মকাণ্ড। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত প্রকাশ করে প্রচারণা শুরু করেছেন।
ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই জন প্রভাবশালী নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন। অন্য একজন নেতা দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে বিএনপির ৩ নেতার মধ্যে নির্বাচন করা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রচারনার কাজ চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কিছুদিন আগে রংপুরে এসে মহানগর জামায়াতের আমির আযম খানকে রংপুর সিটি করপোরেশনের দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত সেখানে কাউকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেনি। তবে শুরুতে দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নাম শোনা গেছে। কিন্তু তিনি রংপুর সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে দলের একটি সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টি অবশ্য অনেক আগেই দুইবারের নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নাম ঘোষণা করেছে। তিনি অনেক দিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এখানে কাউকে প্রার্থী দেবে না বলে জানা যাচ্ছে। এ ছাড়াও এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ বাম গণতান্ত্রিক জোটের কোন প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এখন পর্যন্ত তৎপরতাও দেখা যায়নি।
বিএনপির সম্ভাব্য ৩ প্রার্থী
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তিন নেতা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বর্তমান প্রশাসক মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজুন্নবী ডন প্রার্থী হচ্ছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তিনি ইতিমধ্যেই গণসংযোগসহ ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করে বলছেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ফলে তাকেই দল মনোনয়ন দেবে।
অপরদিকে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্র নেতা শহীদুল ইসলাম মিজু অনেক দিন ধরে রংপুর সিটি কররেপারেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়াও ব্যাপকভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, দল তাকেই মনোনয়ন দেবে।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- এমন একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে চাউর হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে শামু পরাজিত হলেও ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর এবারই প্রথম এ আসনে ধানের শীষ প্রায় ৯০ হাজার ভোট পেয়েছে।
এ বিষয়ে শামুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্বাচন করবেন কি না সেটা এখনও মনস্থির করেননি। তবে দলের একটি অংশের বেইমানি, দলের নির্দেশনা অমান্য করা সহ বিরোধিতার কারণে সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব না হলেও রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি। তবে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত বলে জানান।
এনসিপির অবস্থান
বেশ কিছু দিন ধরে শোনা যাচ্ছিল দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি খোলামেলাভাবে কিছু না জানালেও তার সম্মতি ছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির কয়েকজন নেতা। তবে শেষ বার্তা হলো, তিনি এই সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন না।
এদিকে এনসিপির রংপুর মহানগরের কয়েকজন নেতা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মানিককে দলটির মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য লবিং করছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মানিককে সম্প্রতি দেশেও ডেকে আনাও হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এনসিপি এই সিটির নির্বাচনের জন্য কারও নাম ঘোষণা করেনি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী
রংপুর সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আবারও প্রার্থী হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কবে হবে তা নিশ্চিত নই। সে কারণে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছেন। তারপরও ডোর টু ডোর গণসংযোগ অব্যাহত রেখেন বলে জানান।
এ ছাড়াও এবি পার্টির মাহবুবার রহমান ও সামাজিক সংগঠন বাংলার চোখের চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন আশরাফী মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
তানভীর হোসেন আশরাফী জানান, মেয়র পদে নির্বাচন তো করবেন। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।