প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৬:০০ পিএম (ভিজিট : ৬)
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে স্মরণ সভায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকারের সিনিয়র রিসার্চার তাকসিম তাহমিনা।
তার প্রবন্ধে গুমের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির আহ্বান জানানো হয়।
অধিকারের ১০ দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. সব গুমের ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত; ২. নিখোঁজদের সন্ধানে জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন; ৩. ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; ৪. Certificate of Absence প্রদান ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ; ৫. সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; ৬. সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ বাতিল বা সংশোধন; ৭. র্যাব বিলুপ্তি; ৮. গুমের প্রমাণ নষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা; ৯. দ্রুত ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ; ১০. ICPPED বাস্তবায়ন ও ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অধিকার দাবি করে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করেছে। গোপন বন্দিশালার মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতিক ও সরকারবিরোধীদের আটক করে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গুম তদন্ত কমিশনে ব্যাপক অভিযোগ দাখিল হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘তিন স্তরের পিরামিড’-এর মাধ্যমে গুম বাস্তবায়ন হতো, যার শীর্ষে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দি বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমেও বহু ব্যক্তি নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে গুমের নতুন ঘটনা না ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলছে। অধিকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে গুম আবারও ফিরে আসতে পারে।