
চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে সমন্বিত নগর উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার ও জীবনরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায়িত্বের বিভাজন থাকায় নগর উন্নয়ন ও জনসেবা ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সাহাদাত হোসেন বলেন, একটি সমন্বিত নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে নগর পরিকল্পনা ও সেবা প্রদান কার্যক্রম একটি কাঠামোর আওতায় আসবে। এতে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক অবকাঠামো ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে সমন্বয় বাড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এখনো সিটি করপোরেশনের কর্তৃত্বের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কিছু অংশ, খেলার মাঠ ব্যবস্থাপনা এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মাধ্যমে আগ্রাবাদ এলাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
সরকারি বরাদ্দের বৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাহাদাত হোসেন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোগের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রত্যেককে ১০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
দুটি সিটি করপোরেশনের প্রতিটিকে সম্প্রতি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় চট্টগ্রাম আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
চট্টগ্রাম বন্দরের শহর হিসেবে পর্যটন, ওষুধশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ উৎপাদন এবং চামড়াশিল্পে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন চসিক প্রশাসক। এসব খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
নগরীর সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা তুলে না ধরে তথ্য-উপাত্ত ও বৃহত্তর বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভীন এফ চৌধুরী।