প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
(ভিজিট : ৫)
মেহেরপুরের গাংনীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে আলমাস নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) এর বিচারক তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত আলমাস জেলার গাংনী উপজেলার কচুঁইখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কচুঁইখালী গ্রামের আলমাস তার ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। পরে ওই বিদ্যালয়ের পিছনের ব্রিজের ওপর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান। তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে ওই বছরের ১ ডিসেম্বর স্কুলছাত্রীর বাবা জাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমাস, রেজাউলের ছেলে ওসমান, কায়মুদ্দীনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এতে আসামি আলমাস নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সন্দেহাতীতভাবে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
আসামি আলমাসের প্রতি আরোপিত অর্থদণ্ড ক্ষতিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ক্ষতিপূরণের টাকা আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে আদায় করা সম্ভব না হলে তিনি ভবিষ্যৎ যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন, সে সম্পদ থেকে আদায়যোগ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে ওই সম্পদের ওপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা প্রাধান্য পাবে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর পারভিন সুলতানা এবং আসামি পক্ষে গোলাম মোস্তফা কৌঁসুলী ছিলেন।