
সংগৃহীত ছবি
শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ শিল্প দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও পোশাকশিল্পের বিকাশ ও শ্রমিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পোশাকশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তবে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
মাহদী আমিন বলেন, কারখানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের গাড়ি ও স্থাপনায় আক্রমণের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষে নয়। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিকেরা। এতে বেকারত্ব বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে।
নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শ্রমিকদের গুজব, বিভ্রান্তি ও উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, পোশাকশিল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার সব সময় শ্রমিকদের পাশে থাকবে।