বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম  (ভিজিট : ২৩)
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও মানুষের জীবন-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ এবং আইন বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।

বৈঠকের শুরুতে কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়। তিনি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে আইনটি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানিয়ে তিনি নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইতিহাস কোনো ব্যক্তির একার নয়। সড়কে স্বজন হারানো মানুষ, নিসচার কর্মী এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। নিসচার ভূমিকা এবং ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের তাৎপর্য নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তথ্য, নথি ও প্রামাণ্য ইতিহাসের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে নিসচা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার কাজ করছে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়িত হয় উল্লেখ করে তিনি প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইনকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা, ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতি, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ এবং সড়ক নিরাপত্তার পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

আলোচনায় বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, আইন প্রয়োগ, চালকের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, যাত্রী ও পথচারীর সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় জড়িত।

দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি শক্তিশালী ‘রোড সেফটি ডেটা সেল’ গঠনের প্রস্তাবও দেন বক্তারা। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, দুর্ঘটনার কারণ, হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা, যানবাহনের ধরন, সড়কের অবস্থা এবং আইন লঙ্ঘনের তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব বলে মত দেন তারা।

বক্তারা সড়ক, নৌ, রেল ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন পরিবহন খাতের পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ ও তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনারও আহ্বান জানানো হয়। অন্যান্য দেশের পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বৈঠকে চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ, যানবাহনের নিরাপত্তা ও ফিটনেস, গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারীর সুরক্ষা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতি অনুসরণ, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা ও অগ্রগতি পরিমাপের সূচক নির্ধারণের ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব ভুঁইয়া, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম পিপিএম, ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান, সাবেক সচিব ড. শরীফুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, সড়ক বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, আইইউবির ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরান উল বাসেত এবং বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) মো. জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা, অংশীজনদের মতামত বিবেচনা এবং আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে নিসচা।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: মাহফুজুর রহমান রিমন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]