রবিবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ২ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


‘টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না, সতর্কও করা হয়েছিল’
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০১ পিএম  (ভিজিট : ২৯)
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানিতে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেই রেস্টুরেন্টটি‌কে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ফায়ার সা‌র্ভিসের সদর দফত‌রে আয়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে  তিনি এ তথ্য জানান।

তি‌নি জানান, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। উখিয়াসহ বিভিন্ন গুরুতপূর্ণ স্থানে ১৩০টি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডি‌জি ব‌লেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিল না। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিল না।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আগুন লাগার কারণ নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।

নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারাদেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন। এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলতে বারবার সচেতন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তার এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কক্সবাজারের ইনানী বিচের টুপ টুপ রিসোর্টে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পরে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৪ জন মারা যান। 








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]