শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


কর্মসংস্থান ও শিল্পের চাহিদা মেটাতে টিভেট খাতে জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ছে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম  (ভিজিট : ২১)

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতির পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে (টিভেট) গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ জোরদার এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। এতে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান ও কারিগরি শিক্ষাবিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের মানবসম্পদকে জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ। এই সম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, টিভেট প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সংযোগ তৈরি করে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কার্যক্রম শুধু নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে মিলন বলেন, শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি, পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা হালনাগাদ, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশ এ খাতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষা সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্যের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এগুলো হলো—উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম করা; নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রয়োগ করা; এবং সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণদের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার করা।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]