রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে: রাশেদ খান
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পিএম  (ভিজিট : ৩০)
শহীদ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে কথা বলেন।

ওই পোস্টে লেখেন, ‘ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদির বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন। আর জামায়াতের আমিরের পিএস, বুয়েট শিবিরের সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদিকে বলেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন না করতে, এখানে সাদিক কায়েম জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সে সময় শহীদ ওসমান হাদি উত্তর দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পাব, তবু ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করব...! নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, এ বিষয়ে শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলেন।’
 
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জামায়াতের আমিরের পিএস জুবায়ের কি দেশে আছে? শহীদ ওসমান হাদির ভাই তো তাকেও সন্দেহ করে পোস্ট করেছিলেন।

এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদির প্রতি যাদের এত দরদ, তারা কেন তার আহ্বানে সাড়া দিল না? আমার যদি ভুল না হয়, তিনি তো প্রকাশ্যে আহ্বান করেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে কোনো দল যাতে তার বিপরীতে প্রার্থী না দেয়! উল্টো তার বিপরীতে একজন রিকশাচালককে প্রার্থী করে এনসিপি ওসমান হাদিকে অপমান করে। তাও যদি তাকে প্রার্থী হিসেবে রাখত, সেটা আলাদা কথা ছিল। কিন্তু রিকশাচালক সুজনকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী না করে ওসমান হাদি হত্যার পর তাকে (রিকশাচালক সুজনকে) সরিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে, শহীদ ওসমান হাদিকে ছোট করতে এমন নোংরামি করেছিল এনসিপি।’
তিনি লেখেন, ‘অন্যদিকে জামায়াত তো ওসমান হাদিকে একপ্রকার থ্রেট করে বসে নির্বাচন না করার জন্য বা অন্য আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য! কিন্তু হত্যার পরে শহীদ ওসমান হাদি হয়ে গেছেন জামায়াত-এনসিপির সবচেয়ে বড় আদর্শিক নেতা! কিন্তু মৃত্যুর আগে শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন দুই দলের কাছে বিষ! কারণ তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট, জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো তিনটা অপরাধ চিহ্নিত করেছিলেন এবং জামায়াতকে গুপ্ত বলেছিলেন, যারা রিমোট চাপলে যেকোনো সময় নাই হয়ে যাবে।
 
রাশেদ খান লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদির লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদিকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদিকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন, সেই নোংরা প্ল্যান থেকেই গাঁজাখোর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এমন মন্তব্য করেছেন।’

তিনি লেখেন, ‘আশা করি, বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেই ফাঁদে পা দেবেন না। শহীদ ওসমান হাদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ মেনে সংগ্রাম করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, সেটা অতুলনীয়।

সুতরাং শহীদ ওসমান হাদি জাতীয়তাবাদী আদর্শের অংশ ও লালনকারী। তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো প্ল্যান সাকসেস হবে না।’

রাশেদ খান লেখেন, ‘তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেররা যে সময় বলে, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চিনেছে যে নজরুলের মাজারটা কোন জায়গায়! তখন কিন্তু শুধু জাবেরদের এ বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে শহীদ ওসমান হাদির কবর দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকের  মধ্যে একধরনের প্রশ্নের উদ্রেক আসতে পারে। তবে একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মানুষের কবর দেওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক করা ঠিক না। কারণ শহীদ ওসমান হাদির কবরের সাথে তার কোনো হাত নেই বা হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি এমন কোনো অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে যাননি বরং শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যু হলে কবরটা যেন বাবার কবরের পাশে দেওয়া হয়।’
 
এ নেতা বলেন, ‘আমাদের সবার উচিত, কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শহীদ ওসমান হাদিকে ন্যূনতম তুলনা করে বক্তব্য না দেওয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনাকে শহীদ ওসমান হাদি দারুণভাবে ধারণ করতেন। শহীদ ওসমান হাদি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন যোগ্য শিষ্য বলে মনে করি। সুতরাং গুরু-শিষ্যের কবর পাশাপাশি থাকার মধ্যে কোনো সংকট আছে বলে মনে করি না। বরং আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাসহ বেশ কিছু কবিতা যেন শুধুমাত্র শহীদ ওসমান হাদির আবৃত্তির জন্য সৃষ্টি হয়েছিল।’ 

তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত-এনসিপি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদ ওসমান হাদিকে যত কম টানাহেঁচড়া করবে, শহীদ ওসমান হাদি তত বেশি সর্বজনীন ও প্রাসঙ্গিক থাকবে। আর প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাথে শহীদ ওসমান হাদির খুবই গভীর সম্পর্ক ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নুরুল হক নুর আক্রান্ত হওয়ার পরে শহীদ ওসমান হাদি বিচারের দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। এবং শহীদ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও নুরুল হক নুরও ওসমান হাদির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।’

তারা দুজনই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা। নুরুল হুক নুরের পুরো বক্তব্য শুনলে মনে হবে না যে, তিনি শহীদ ওসমান হাদীকে কোনোভাবে ছোটো করেছেন। বরং তার রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ও বিভ্রান্তি ছড়াতে বক্তব্য কাটছাঁট করে খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করেছে। আশা করি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। 

ওই পোস্টে তিনি আরো লেখেন, ‘আজ সকালে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিল, তিনিও বললেন, যে সময় কেউ কথা বলত না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধী পক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। আমিও শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সাথে একমত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করব, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’ 








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]