আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস অ্যাইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আলবিসেলেস্তেদের আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। প্রিয় তারকাকে রাজকীয় বিদায় জানাতে প্রস্তুত দেশের লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী।
তবে সেই স্মৃতিময় দিনটি উদযাপনের আগেই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ফিফা র্যাংকিংয়ের ৬২তম দল বুরকিনা ফাসোর ওপর একপ্রকার তাণ্ডব চালাল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ছাড়াই এবারের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। তবে অধিনায়কের অনুপস্থিতিতেও দলের ধার যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।
প্রথম ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪ গোল দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয় ম্যাচে বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ৫ গোল আদায় করে নেওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় অর্ধে যোগ করে আরো দুটি গোল।
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি বক্সের ভেতরে অগাস্টিন জিয়ায়কে ফাউল করে বসেন বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
স্পট কিক নেন লাউতারো মার্তিনেজ। বুরকিনা ফাসোর গোলকিপার রাজাক গুইরা লাউতারোর প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দিলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। সেই ফিরতি সুযোগেই ‘এল তোরো’ বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। বলিভিয়ার পর এটি ছিল লাউতারোর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪২তম গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে বসলেন তিনি।
এখন তার সামনে শুধুই গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (৫৪ গোল) এবং শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসি (১২৫ গোল)।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বিপদে পড়েন বুরকিনা ফাসোর ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার দিয়ালো। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করতে গিয়ে ভুলবশত নিজ জালেই বল ঢুকিয়ে দিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন তিনি। ফলে ম্যাচের প্রথম আট মিনিটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না পেরে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা।
ম্যাচের ১৫ মিনিট পার হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গোলের খাতা খোলেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। ম্যাচের ১২তম মিনিটে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে কোনো সুযোগ না দিয়ে দারুণ এক জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটিই জাতীয় দলের হয়ে প্রেস্তিয়ানির প্রথম গোল।
কয়েক দিন আগে বলিভিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খালি জায়গা খুঁজে নিয়ে গোল করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন নিকো পাজ। আর প্রথমার্ধেই দলের পঞ্চম গোলটি আদায় করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য গোলের পর এটি ছিল জাতীয় দলে তার আরেকটি দৃষ্টিনন্দন গোল।
বিরতির পর দ্বিতীয় অর্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি নিশ্চিত করেন এই তরুণ তারকা। এরপর ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে বুরকিনা ফাসোর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে ৭-০ গোলের জয় পূর্ণ করেন জিউলিয়ানো সিমিওনে।