শনিবার ● ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


অ্যাভেঞ্জার্স ধামাকার সঙ্গে জেসন স্ট্যাথামের মিউটিনি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম  (ভিজিট : ১৩)
বহুল কাঙ্খিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তি পাবে ডিসেম্বরে। ভক্তরা যখন সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তখন আরেক ধামাকা নিয়ে এসেছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ পর্দায় ফিরিয়ে আনছে আবার। তবে ঠিক পুরনো সিনেমাটিই নয়, তার সঙ্গে থাকছে নতুন সংযোজন। আর এখানেই লুকিয়ে আছে রহস্য। যে রহস্য উন্মোচন করার জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর পর্দায় আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর’। সারাবিশে^র সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে সিনেমাটি। সেই সাথে থাকছে জেসন স্ট্যাথাম ভক্তদের জন্য নতুন উপহার। জনপ্রিয় এই হলিউড তারকার নতুন সিনেমা ‘মিউটিনি’ স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। 

অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর
অ্যাভেঞ্জার্স ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে দারুণ খবর। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র মূল প্রেক্ষাপট সহজে বুঝতে দর্শকদের জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ও সিরিজের একটি বিশেষ তালিকা সাজিয়েছে মার্ভেল। এর পাশাপাশি পুরোনো গল্পের যোগসূত্র ঝালিয়ে নিতে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্দায় আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর’। ২০১৯ সালের মূল সিনেমাটির সঙ্গে নতুন কিছু দৃশ্য যুক্ত করে এই বিশেষ সংস্করণটি তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের ‘ডুমসডে’র গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে সাহায্য করবে। তাই এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের বিশেষ কৌতুহল রয়েছে। 

সাত বছর আগে যে সিনেমা শেষ করে দিয়েছিল মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের একটি যুগ, সেটিই আবার ফিরছে বড় পর্দায়। তবে শুধু পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে নয়, এবার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ফিরছে নতুন চমক নিয়ে। মূল সিনেমার গল্প ও পরিচিত দৃশ্যগুলো থাকছে আগের মতোই। তবে যোগ হচ্ছে প্রায় চার মিনিটের নতুন দৃশ্য। ফলে সিনেমাটির দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়াবে ১৮৫ মিনিটে। শুধু নতুন দৃশ্যই নয়, থাকছে নতুন একটি ভূমিকা এবং অতিরিক্ত একটি শেষ দৃশ্যও। অর্থাৎ সাত বছর আগের সেই গল্পের মাঝেই এবার ঢুকে পড়ছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত। কেন আবার ‘এন্ডগেম’ দেখতে যাবেন দর্শক? উত্তরটা খুব সহজ, সেই আবেগ এখনো পুরোনো হয়নি। টনি স্টার্কের আত্মত্যাগ, স্টিভ রজার্সের বহু প্রতীক্ষিত নাচ, নাতাশার আত্মবলিদান, থরের হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত কিংবা ক্যাপ্টেন আমেরিকার হাতে মজলনির ফিরে আসা-প্রতিটি মুহূর্তই ভক্তদের স্মৃতিতে এখনো তাজা। তবে ‘এনকোর’-এর আসল খেলা অন্য জায়গায়। নতুন ফুটেজে কী দেখানো হবে? ‘ডুমসডে’র সঙ্গে এর সংযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এমসিইউ’র পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য কী সূত্র লুকিয়ে রেখেছে মার্ভেল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই এবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে পারেন কোটি কোটি ভক্ত। এর সঙ্গে রয়েছে প্রেক্ষাগৃহে ‘এন্ডগেম’ দেখার সম্মিলিত উন্মাদনা। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দর্শকের উল্লাস, চিৎকার আর হাততালি যেন সিনেমারই অংশ হয়ে উঠেছিল। আবার পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে সেই অভিজ্ঞতা ফিরে পাওয়া হতে পারে ‘এনকোর’-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ। পরিচালক জো রুশোর মন্তব্যও বাড়িয়েছে প্রত্যাশা। তার ইঙ্গিত, ‘এন্ডগেম: এনকোর’ ও ‘ডুমসডে’র মধ্যে একটি সেতুর কাজ করবে। তাই এটি নিছক পুরোনো সিনেমার পুনঃমুক্তি নয়। বরং ভাবুন, শেষ করে ফেলা একটি বইয়ের হঠাৎ পাওয়া অতিরিক্ত একটি পৃষ্ঠা। আর সেই পৃষ্ঠার শেষ লাইন যদি লেখা থাকে ‘ডুমসডে’ তাহলে মার্ভেল ভক্তরা কি আর সেই পৃষ্ঠা না পড়ে থাকতে পারবেন? সেজন্যই ট্রেলার প্রকাশের পর রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ভক্তরা। মুক্তির প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৭৭ মিলিয়ন ভিউ পেরিয়ে যায়। এটি যেকোনো সিনেমার রি-রিলিজ ট্রেলারের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী দর্শকসংখ্যার একটি নতুন রেকর্ড। এদিকে, অগ্রীম টিকিট বিক্রিতে মাইলফলক তৈরি করেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। ইতোমধ্যে শুধু উত্তর আমেরিকার বাজারেই ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। 

‘মিউটিনি’
হলিউডের জনপ্রিয় এই অ্যাকশন তারকা জেসন স্ট্যাথামের নতুন সিনেমা ‘মিউটিনি’। জ্যাঁ-ফ্রাঁসোয়া রিশে পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী সিনেমায় স্ট্যাথামের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অ্যানাবেল ওয়ালিস, রোল্যান্ড মোলার, অ্যাড্রিয়ান লেস্টার, জেসন ওং, আরনাস ফেদারাভিচুসহ অনেকে। 
বিশাল কার্গো জাহাজের ভেতরে বন্দুকযুদ্ধ, মারামারি, ধাওয়া এবং বিস্ফোরণের পাশাপাশি জেসন স্ট্যাথামের পরিচিত সেই অ্যাকশন দৃশ্য। কখনও তাকে একাধিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যায়, কখনও আবার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এক দিকে সমুদ্রের বিশালতা, অন্যদিকে জাহাজের সীমিত পরিসরে সংঘাতের তীব্র্রতা অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। 

সিনেমার প্রধান চরিত্র কোল রিডের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেসন স্ট্যাথাম। একসময় নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন রিড। স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন। ঘটনাক্রমে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। শীর্ষস্থানীয় এক শিল্পপতি তার বস। আচমকা রিডের চোখের সামনে তার বসকে হত্যা করা হয়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, সেই খুনের দায় চাপানো হয় রিডের ওপর। পালিয়ে গিয়ে সত্যিকারের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার মিশন শুরু করেন রিড। উঠে পড়েন একটি কার্গো জাহাজে। সমুদ্রের মাঝখানে সেই জাহাজেই শুরু হয় প্রতিশোধের অভিযান। খুব দ্রæতই রিড বুঝতে পারেন, ঘটনাটি কেবল একজন ধনকুবেরের হত্যাকান্ড নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এখানেই ‘মিউটিনি’র গল্পে যোগ হয় নতুন মাত্রা। পথে পথে রিডকে মুখোমুখি হতে হয় ভাড়াটে যোদ্ধা ও অপরাধচক্রের। সমুদ্রের মাঝখানে সাহায্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত। ফলে নিজের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক সামর্থ্যরে ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। রিডের সামনে একদিকে যেমন রয়েছে তার বসের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তাকে আন্তর্জাতিক এক শক্তির মোকাবিলা করতে হবে। স্ট্যাথামের পারফরম্যান্স সম্পর্কে যারা জানেন তাদেরকে বলার অবকাশ নেই এ ধরণের চরিত্রে তিনি কতটা দুর্দান্ত। এই সিনেমায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখবেন তিনিই। 

লম্বা সময় ধরে গল্প টেনে নেওয়ার বদলে দ্রতগতির বর্ণনা, অ্যাকশন এবং থ্রিলের ওপর জোর দিয়েছেন নির্মাতা। সিনেমাটি যেহেতু ‘আর রেটেট’, ফলে এর অ্যাকশন দৃশ্য ও সহিংসতার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই জেসন স্ট্যাথাম। সিনেমার অ্যাকশন মূলত স্ট্যাথামের পরিচিত স্টাইলেই। ঘনিষ্ঠ লড়াই, বন্দুকযুদ্ধ, দ্রæতগতির সংঘর্ষ এবং সীমিত জায়গার মধ্যে টানটান পরিস্থিতি। সিনেমার বড় অংশ কার্গো জাহাজকে কেন্দ্র করে হওয়ায় অ্যাকশনে একটা আটকে পড়ার অনুভূতি তৈরি হয়। গল্পে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় যখন প্রচার করা হয় রিড মারা গেছে। নির্মাতা এখানে দর্শকদের জন্য একটা চমক রাখার চেষ্টা করেছেন। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দর্শক একটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাবেন। স্ট্যাথাম ভক্তরা যে একটা আত্মতৃপ্তি নিয়ে সিনেমাটি শেষ করবেন সেটাও বলা যায় নিশ্চিতভাবে








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]