বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


সংসদে আমরা ফাইল ছোড়া বিরোধী দল হব না: ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম  (ভিজিট : ২৭)
সংসদে গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি আমাদের ভালো পরামর্শগুলো না নেয়, তবে আমাদের কী করার থাকতে পারে? ফাইল ছুড়ে ওখানে একটা ‘সিন ক্রিয়েট’ করা কিংবা ওয়াকআউট করে বের হয়ে আসায় কি সমস্যার সমাধান হবে? ফাইল ছুড়ে বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে তো লাভ নেই। তখন আমাদের কাজ হবে ভুক্তভোগী জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সংসদে আমরা ফাইল ছোড়ার মতো বিরোধী দল হব না।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিয়ময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা স্পিকার গুম করার বিরুদ্ধে দল হব না। আমরা আনসিভিলাইজড কোনো কাজ করব না। জংলি কোনো কাজ করব না। আমরা যা করব এথিক্স, ল এবং হিউম্যানিটিকে ধারণ করব। আর যা করব জনগণের জন্য করব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তারা একাধিকবার নোটিশ দিয়েছেন। তেলের সংকট নিয়েও ৬২ বিধিতে আলোচনার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের বলা হয়, ৬৮ বিধিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য নোটিশ দিতে। তারা তাতে সম্মত হন। এরপর তাদের প্রস্তাবের পর প্রধানমন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের প্রস্তাব নিয়ে আসেন এবং সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে মোট ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, তিন দিনের মাথায় দেখা গেল যে বিষয়টা সলভ হয়ে গেছে। এই সময়ের ভেতরে বিপুল পরিমাণ তেল বাংলাদেশে আমদানি হয়নি। বরঞ্চ মানুষের মনে একটা আস্থা এসেছিল যে, এই বিষয়টাকে একইভাবে সরকারি দল এবং বিরোধী দল গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা একটি যৌথ কমিটি ঘোষণা করেছে। মানুষের মনে যে আতঙ্ক ছিল, সেই আতঙ্কটা দূর হয়ে গেছে।

তবে কেউ কেউ জামায়াত কৃত্রিমভাবে মানুষকে উসকে দিয়ে উত্তেজিত করেছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নাকচ করে তিনি বলেন, জনগণ এসব কথা গ্রহণ করেনি। সংসদে সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দেওয়া নোটিশ আলোচনায় আনার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

শিল্প খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে অর্ডার কমছে। এভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সমাজে পড়বে।

তিনি বলেন, আজকে যদি ইন্ডাস্ট্রিগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে, কী হবে? তার সর্বগ্রাসী একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি এবং সমাজে। প্রথমত, প্রোডাকশন কমে যাওয়ার কারণে মালিকরা টিকে উঠতে পারবে না, ফলে শ্রমিক ছাঁটাই তাদের জন্য একেবারে অপরিহার্য হয়ে পড়বে। ছাঁটাই করা শ্রমিকগুলো যাবে কোথায়?

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হারানোর ফলে সামাজিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির বলেন, কর্মসংস্থান না থাকলে কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে, কেউ হতাশায় আত্মহত্যা করতে পারে, আবার কেউ ক্ষোভের কারণে মালিকের ওপর হামলা করতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে শিল্প খাতের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। জামায়াতের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে কাজ করা অভিজ্ঞ অ্যাকাডেমিশিয়ান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের নিয়ে এই দল গঠিত। সরকারের দল চাইলে তাদের সঙ্গে এই বিশেষজ্ঞ দলকে যুক্ত করে দিতে চেয়েছিলেন তারা। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

তিনি প্রশ্ন করেন, এখন আমরা কি সরকারকে বাইপাস করে এই সমস্যার সমাধান বিরোধী দল করতে পারব? আমাদের হাতে সেরকম কিছু আছে? সুযোগ আছে কিনা, সুযোগও তো নাই। যা করবে সরকারকেই তো উদ্যোগ নিতে হবে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি বিরোধী দলের পরামর্শ গ্রহণ না করে, তারপরও সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সমাধান নয়। জনগণের কাছে গিয়ে বিষয়গুলো তুলে ধরাই তখন বিরোধী দলের কাজ।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করার কথা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমি মনে করি যে এটা অসঙ্গত অন্যায় সিদ্ধান্ত হবে। বিরোধী দল হিসেবে আমরা এটা চাই না। আমি জামায়াতে ইসলামের দায়িত্ব নিয়ে বলতেছি, আমরা এটা চাই না। আমরা সেখানে টাকা রুজি করতে চাইনি, বেতনের বিনিময়ে আমরা সংসদ সদস্যগিরি করতে চাইনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে তারা অংশীদার হতে পারেন। কিন্তু দেশের মানুষ যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত নয়।

সরকারি প্লট ও ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আগে তারা এসব সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বলেছিলেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করেছেন। একই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারি দলকেও তারা অভিনন্দন জানিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা এইভাবে এই সংসদটাকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। আমাদের কপাল-কিসমত গড়ার জন্য নয়। সরকারি দল হোক, বিরোধী দল হোক, সবাই বলেছেন আমি শাসক নই, সেবক হতে চাই। তো এখন শাসকের মানসিকতা থাকবে কেন? সেবকের মানসিকতা থাকবে।

সাক্ষাৎকার ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের কিছু রিজারভেশন রয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্যের অংশবিশেষ কেটে ফটোকার্ডে প্রকাশ করা হয়, ফলে বক্তব্যের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

তিনি বলেন, আমি ইন্টারভিউতে যা বলি, ফটোকার্ডে তা আসে না। মিসলিডিং কাট, পিস লেজ নাই, মাথা নাই, মাঝখান থেকে শুধু পেট উঠাইয়ে দেওয়া হয়। মানে কি? এটার মাধ্যমে মানুষ কনফিউজড হয়।

তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সরকারের সুযোগ ছিল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার। কিন্তু সরকার তা না করে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল, বিএনপির কর্মকাণ্ডে তাতে ফাটল ধরেছে। 








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]