রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


রিট নিষ্পত্তি বাড়ছে, কমছে বিচারাধীন মামলা
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৮ পিএম  (ভিজিট : ১৭)
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নিয়ে রিট করা বন্ধ হলে মামলার চাপ আরো কমবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আদালতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। আদালতে শৃঙ্খলা থাকলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পায়। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে রিট মামলার সংখ্যাও কমে আসবে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি।

জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২টি। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি।
এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। বিপরীতে নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি।

অর্থাৎ এ সময়ে নতুন মামলার প্রায় দ্বিগুণ রিট নিষ্পত্তি হয়েছে। জুন শেষে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।

লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার কারণ সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলার (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) নামে ব্যক্তিস্বার্থে রিট করা হয়। এর উদ্দেশ্য থাকে আত্মপ্রচার। রিট করার পরপরই গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়ানোর প্রবণতাও রয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আপিল বিভাগ বিভিন্ন রায়ে স্পষ্ট করেছেন, কোন ধরনের মামলা হাইকোর্ট গ্রহণ করতে পারেন এবং কোনগুলো পারেন না। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের পরও বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট গ্রহণ ও আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিচারিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এই জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।

ব্যারিস্টার কাজল বলেন, জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড়সহ ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়েও সরাসরি হাইকোর্টে রিট করা হচ্ছে। অথচ এসব বিরোধের প্রতিকার পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিম্ন আদালতে যেতে হয়। প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি হাইকোর্টে আসায় রিট মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস, ম্যান্ডামাস, সার্টিওরারি, প্রহিবিশন ও কো-ওয়ারেন্টো—এই পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে।

তবে জনস্বার্থে রিটের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও রয়েছে। মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মাধ্যমে দেশে জনস্বার্থে রিটের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। এরপর নদী দখল, অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা, জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নারী-শিশুসহ প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব মামলার অনেক রায় ও আদেশের সুফল পেয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]