প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
(ভিজিট : ০)
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের ওপর নির্যাতন এবং মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাশেদ খান বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা রাশেদ খানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ট্রাইব্যুনালের ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ইতোমধ্যে রাশেদ খানের লিখিত অভিযোগ ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে রাশেদ খানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ভিন্নমত দমনে তখন পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে একই ধরনের দমন-পীড়নের অভিযোগ ছিল।
ওই সময়ে অনেক আন্দোলনকারী নেতা ও সাধারণ মানুষকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, মাওলানা আলামিনকে অপহরণ, দীর্ঘদিন আটকে রাখা, পরে হত্যা এবং লাশ গুম করার ঘটনায় এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এরই মধ্যে এই হত্যা মামলায় ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল মনে করছে, একাধিক ব্যক্তির ওপর একই পদ্ধতিতে পরিচালিত এই নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডগুলো অপরাধের ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক ও পদ্ধতিগত) প্রকৃতির অংশ।
ফলে এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সরাসরি এক্তিয়ারভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।