পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে তুমুল আলোচনায় উঠে এলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল হক। দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি এখন নির্ভর করছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। রিজওয়ানের বিরুদ্ধে সংস্থাটির জারি করা নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন লাহোর হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম। দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
রিজওয়ানের আইনজীবী কাজী উমাইর আলী আদালতে জানান, তার মক্কেলকে এনসিসিআইএ নোটিশ দিয়েছে। এ সময় প্রধান বিচারপতি রিজওয়ানকে নোটিশের জবাব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের উদ্ধৃতি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম বলেন, ‘আপনি গিয়ে নোটিশের জবাব দিন। আপনাকে কোন তারিখে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল?’
রিজওয়ানের আইনজীবী দাবি করেন, লর্ডস টেস্টের পর একটি হোটেলে রিজওয়ানকে কোনো নোটিশ না দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সে সময় তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
আইনজীবীর দাবি, রিজওয়ানকে বলা হয়েছিল তিন ঘণ্টার মধ্যে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হবে। সেই আশ্বাসে তিনি ফোন জমা দিলেও নির্ধারিত সময়ের পরও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
এনসিসিআইএর তদন্তের এখতিয়ার নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন রিজওয়ানের আইনজীবী। তার বক্তব্য ছিল, ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্তের উপযুক্ত সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট। কিন্তু এই বিষয়টি আইসিসির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে এনসিসিআইএর সমন চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। তদন্তের এখতিয়ার এবং কী ধরনের তদন্ত করা হচ্ছে- দুই বিষয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
এদিকে পিটিআইকে দেওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রিজওয়ান ও ইমাম-উল হকের কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছে এনসিসিআইএ। তদন্ত শেষে আগামী সপ্তাহে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে সংস্থাটির।
এই ফরেনসিক পরীক্ষার ফলের ওপরই মূলত নির্ভর করছে দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পিসিবি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না।
পিটিআইয়ের ওই সূত্র বলেছে, এনসিসিআইএ পিসিবির কাছে কী তথ্য দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপ। ফরেনসিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া না গেলে তারা শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারেন।
অর্থাৎ, আপাতত রিজওয়ান ও ইমামের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি পিসিবি। এনসিসিআইএর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বোর্ড।
লাহোর হাইকোর্টে রিজওয়ানের আবেদন খারিজ হওয়ায় এখন এনসিসিআইএর নোটিশের জবাব দেওয়ার পথই খোলা থাকছে তার সামনে। একই সময়ে তার ও ইমামের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
এরপর এনসিসিআইএর প্রতিবেদনে কী উঠে আসে, সেটিই ঠিক করবে পাকিস্তান ক্রিকেটের এই দুই পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। আপাতত পিসিবির নজর তদন্ত প্রতিবেদনটির দিকেই।