বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রুইয়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বছরের প্রায় নয় মাসই পানিতে ডুবে থাকে। বর্তমানে মাঠে গলা সমান পানি জমে থাকায় বিদ্যালয়ের ৯৩ শিক্ষার্থী শরীরচর্চা, খেলাধুলা ও ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্থির পানিতে মশার প্রজননও বাড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিফিনের সময় ঘণ্টা বাজার পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হলেও মাঠে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের মাঠসহ তিন পাশেই গলা সমান পানি জমে আছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে শিশুদের। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুল চলাকালে বারান্দার গেটও বন্ধ রাখা হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চিতলমারী উপজেলার রুইয়ারকুল গ্রামে ৩৩ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। পাঁচটি শ্রেণিতে মোট ৯৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় বাকি দুই শিক্ষককে দিয়ে পাঠদান চালিয়ে নিতে হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শরীরচর্চা করানো সম্ভব হয় না। বন্ধ রয়েছে খেলাধুলা ও ক্রীড়া উৎসবও। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বেড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীপ ব্রহ্ম, জান্নাতী আক্তার, পিয়াল, শায়ন ব্রহ্ম, পৃথিবী ব্রহ্ম, রুপা আক্তার, ফারিয়া আক্তার, অমিত ব্রহ্ম ও অথৈ ব্রহ্ম জানায়, প্রায় নয় মাস ধরে তাদের বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। এ কারণে তারা শরীরচর্চা ও খেলাধুলা করতে পারে না। তাদের ভাষ্য, খেলাধুলার সুযোগ থাকলে শরীর ও মন ভালো থাকবে এবং পড়াশোনায়ও আরও আগ্রহ বাড়বে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাকির শিকদার, অমিত মন্ডল ও পরিমল ব্রহ্ম বলেন, ‘মাঠের যে অবস্থা, তাতে খেলাধুলা তো পরের কথা। আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় থাকি। অন্য স্কুলের বাচ্চারা যেখানে খেলছে, সেখানে আমাদের সন্তানেরা ক্লাসরুম ও বারান্দায় বন্দি হয়ে থাকে। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন।’
রুইয়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবর্ণা মন্ডল ও সহকারী শিক্ষক তহমিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ৯৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বছরের প্রায় নয় মাস মাঠের এই করুণ অবস্থা থাকে। এ কারণে এ সময়ে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ও খেলাধুলা বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই বিদ্যালয়ের মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করা জরুরি।’
বিদ্যালয়ের সভাপতি কামাল শেখ জানান, প্রধান শিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম গত বছর অবসরে যাওয়ার আগে মাঠটি বালু দিয়ে ভরাটের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত মাঠ ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এ সম্পর্কে কেউ আমাকে অবহিত করেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
বিদ্যালয়ের মাঠ দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত মাঠটি ভরাট করে ব্যবহার উপযোগী করা হোক।