চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন করে পাঁচ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যেখানে পুরো আগস্ট মাসজুড়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় বারোশ জন। অথচ বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাড়ে আটশর সামান্য বেশি অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের গতি বহুগুণ বেড়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে পঁচিশশর বেশি, যাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি মৃত্যুই ঘটেছে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে।
তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও এখনো হাসপাতালগুলোতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। এরপরও এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থেমে থেমে চলা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা অবাধে বংশবিস্তার করছে। ফুলের টব, নারিকেলের খোসা, পুরনো টায়ার কিংবা ফেলে রাখা পাত্র, এসবই হয়ে উঠেছে মশার আঁতুড়ঘর।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শরীরে পানি ও তরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। শুধু এনএস১ টেস্ট পজিটিভ এলেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই, রোগীর শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা সতর্ক করেছেন, জ্বর সেরে যাওয়ার পরের সময়টাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তখন রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্লাটিলেট কমে গেলেও অযথা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন জানান, প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জমা পানিতে মশার প্রজনন বেড়ে গেছে। নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে, পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে শহরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে যা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০২৩ সালই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ—সেবার প্রায় চৌদ্দ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ১০৭ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। এরপরের বছরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতি বছরই কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।