শিশুদের সুস্থ বিনোদন ও মানসিক বিকাশের জন্য কুড়িগ্রাম শহরে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক শিশুপার্ক। জেলা পরিষদের নিজস্ব ৭৩ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পার্কটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও এখনো জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের আবেদন করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে পার্কটি কবে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত হবে, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম শহরের ডায়াবেটিস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় শিশুপার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এ কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পার্কটি নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬।
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ ১৬টি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি উপজেলায় রয়েছে চার শতাধিক চর। জেলার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জেলায় শিশুদের বিনোদনের সুযোগও সীমিত। জেলা শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস থাকলেও শিশুদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক কোনো পার্ক ছিল না। এমন বাস্তবতায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিশুপার্ক নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি করেছে।
নির্মাণাধীন পার্কটিতে শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভান্সার কার, মেরি গো রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং ও রকার বাই হ্যান্ড। রয়েছে শিশুদের খেলার মাঠ। পার্কের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে সোলার স্ট্রিট লাইট। অভ্যন্তরে নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা ও আধুনিক গেট। দেয়ালে শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন ছবি ও শ্লোগানও রাখা হয়েছে। নির্মাণাধীন অবস্থাতেই এসব স্থাপনা স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।
শিশুপার্কটির নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান বলেন, শিশুপার্কটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হস্তান্তরের আবেদন এখনো করা হয়নি। আশা করছি, ৩০ অক্টোবরের আগেই হস্তান্তর করতে পারব।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম জানান, পার্কটি হস্তান্তরের আবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে জেলা প্রশাসন একটি শক্তিশালী পরিদর্শন টিম গঠন করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট টিমকে সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে পত্র দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং পার্কের সব কাজ সমাপ্ত হলে স্থানীয়দের চাহিদার কথা বিবেচনা করে খুব শিগগিরই পার্কটি উদ্বোধন করা হবে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, রৌমারীর চারতলা ডাকবাংলোর হস্তান্তরের আবেদন পাওয়ার পর একইভাবে পরিদর্শন টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, কুড়িগ্রামে অন্য কোনো পার্ক না থাকায় এ শিশুপার্কটি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আমি মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করলে এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের পরিদর্শন প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শিগগিরই কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর জন্য পার্কটি উন্মুক্ত করা হবে।
প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ শিশুপার্কটি চালু হলে কুড়িগ্রাম শহরের শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও পরিদর্শন প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।