প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
(ভিজিট : ৪)
আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগের কথা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, দিনটি ছিল শুক্রবার। ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সালমান শাহ। সময়ের হিসেবে আজ ঢালিউডের এই অমর নায়ককে হারানোর তিন দশক পূর্ণ হলো। মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিভে গিয়েছিল তার জীবনপ্রদীপ, কিন্তু আজও দেশের কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক রাজপুত্র হয়েই আছেন।
সালমান শাহর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন সালমান। ছোটবেলা থেকেই গান, মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি।
পরিবারের অমত ছিল, এরপর হঠাৎ করেই...
চলচ্চিত্রে সালমান শাহর আগমনটা হয়েছিল একপ্রকার হঠাৎ করেই। বিষয়টিকে তিনি শুধু শখ হিসেবেই নিয়েছিলেন। এমনকি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাবে প্রথমে তার পরিবারেরও অমত ছিল। পরবর্তীতে পরিবারের অনুমতি নিয়েই রূপালী পর্দায় পা রাখেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, পেশাদার শিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয় করবেন—তা কখনো কল্পনাও করেননি। তবে সেই ‘হঠাৎ’ শুরুটাই বদলে দিয়েছিল তার এই পরিচয়।
নব্বইয়ের দশকে আত্মপ্রকাশ করা এই নায়ক শুধু 'হিরোইজম' দিয়েই দর্শকের মন জয় করেনি, আধুনিক ফ্যাশন আইকন হিসেবে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন অনেকটাই। মাথায় ব্যান্ডানা, চোখে সানগ্লাস আর সঙ্গে বাইক—এটাই ছিল তার চিরচেনা রূপ। তার স্টাইল ও সজ্জায় যে আধুনিকতার ছাপ ছিল, তা পরবর্তী সময়ে বলিউডেও দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেন, সালমান শাহ যেন ছিলেন বিনোদন জগতের এক 'টাইম ট্রাভেলার'। জাঁকজমকপূর্ণ স্টারডম নয়, বরং তার সাদামাটা স্বভাব ও প্রাণবন্ত হাসি মুহূর্তেই জয় করে নিত কোটি মানুষের মন।
সালমান শাহ'র চিরবিদায় ঢালিউডের ‘অপূরণীয় ক্ষতি’
মাত্র চার বছরের স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। তবে তার হঠাৎ চলে যাওয়া ঢালিউডকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহর অকালমৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্যের জট আজও খোলেনি; এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—সেই ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। তবে রহস্য যা-ই থাক, অগণিত ভক্তের ভালোবাসা আর স্মৃতিতে তিনি আজও বেঁচে আছেন অমলিন হয়ে।