ভক্তি, ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আমেজে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষে শুক্রবার মোরেলগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন থেকে আসা শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও ভক্ত অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল থেকেই জন্মাষ্টমীকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে মোরেলগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়।
সার্বজনীন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপক কর্মকারের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক।
শোভাযাত্রা শেষে ভক্তরা মন্দির প্রাঙ্গণে ফিরে আসেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা সভা। সভায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ধীরেশু কুমার রায়, সদস্য সচিব উত্তম কুমার কর্মকার ও প্রভাষক প্রবীর দেবনাথসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের অন্যতম শিক্ষা হলো অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় জন্মাষ্টমীর শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মোরেলগঞ্জে সৃষ্টি হয় এক মিলনমেলার আবহ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। শান্তি, সম্প্রীতি ও সকলের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন।
মোরেলগঞ্জে প্রতিবছরের মতো এবারও শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উৎসবটি হয়ে ওঠে সর্বজনীন মিলনমেলার এক উজ্জ্বল আয়োজন।