টেকসই উৎপাদন, জলবায়ু উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ১১ ও ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের ‘ফরওয়ার্ড ফাস্টার নাও—এপ্যাক ২০২৬’ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন উর্মি গ্রুপের পরিচালক শামারুখ ফখরুদ্দিন।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক, জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অংশ নেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, জলবায়ু দায়িত্ব, টেকসই উৎপাদন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন শামারুখ ফখরুদ্দিন। ‘বিজনেস আনইউজুয়াল : সিইও লিডারশিপ ইন আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ শীর্ষক সেশনে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় ব্যবসায়িক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
সেশনে শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
অন্য সেশন ‘এমপাওয়ারিং এসএমইস অ্যান্ড সাপ্লাই চেইনস: ফ্রম এনগেজমেন্ট টু ট্রান্সফরমেশন’-এ উর্মি গ্রুপের কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি সরবরাহকারীদের এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শামারুখ ফখরুদ্দিন।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের যাত্রা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসা, সাপ্লাই চেইন ও কমিউনিটির মধ্যে সহযোগিতাই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের মূল ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের মতো বড় উৎপাদন ও পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য টেকসই উৎপাদন এখন শুধু কারখানার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো সাপ্লাই চেইনকে পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও সক্ষম করে তোলাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
উর্মি গ্রুপ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির সাসটেইনেবিলিটি, সাপ্লাই চেইন, মানবসম্পদ, কমপ্লায়েন্স ও উৎপাদন দলের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। এ কার্যক্রমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ।