প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম
(ভিজিট : ২০)
দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পর্যাপ্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্ট করতে পারছেন না। এর ফলে ফ্রান্সে বৈধভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াতেও জটিলতার মুখে পড়ছেন অনেকে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন হলেও দূতাবাসের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৮০ জনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক আবেদনকারী সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ফ্রান্সে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা নতুন পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার কারণে অনেকের প্রশাসনিক কার্যক্রম আটকে যাচ্ছে। কেউ কেউ ফ্রান্সে তাদের বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।
আবেদনকারীর সংখ্যা এর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় সেবা আরও সম্প্রসারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে এই সংকটকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কিছু ব্যক্তি সুযোগ নিচ্ছেন।
প্রবাসীদের মতে, ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে পাসপোর্ট, ভিসা, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ওপর দূতাবাসের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় জনবল ও সেবার সক্ষমতা না বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
এদিকে দূতাবাসের জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে কিছু রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক দূতাবাসে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয় এবং কনস্যুলার সেবায় অনানুষ্ঠানিকভাবে কাউকে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্রবাসীদের দাবি, সাময়িক বা ব্যক্তিনির্ভর উদ্যোগ নয়, বরং দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, পাসপোর্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের অভিযোগ তদন্ত করে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পাসপোর্ট সেবার সংকট নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে।