বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬ ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


কর্তৃপক্ষের অবহেলায়ই কমনওয়েলথে পাকিস্তানের ভরাডুবি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০০ পিএম  (ভিজিট : ৩২)
সদ্য সমাপ্ত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ভরাডুবি ঘটেছে। ৩৬ সদস্যের পাকিস্তান দলকে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে।

১৯৯০ সালের পর কমনওয়েলথ গেমসের পর এটাই পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। এই ভরাডুবির জন্য পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
 
পাকিস্তানের বড় ভরসা জ্যাভলিন থ্রোয়ার আরশাদ নাদিমই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ৯০ দশমিক ১২ মিটার ছুড়ে স্বর্ণপদক জেতা আরশাদ এবার ৮০ মিটারের গণ্ডিও পার করতে পারেননি।

নবম হয়ে তিনি ৮ জনের ফাইনাল রাউন্ডেও উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। অলিম্পিকে ৯২ দশমিক ৯৭ মিটারের রেকর্ড থ্রো করে স্বর্ণপদক জেতা এই তারকাকে ৮০ মিটার পার করতেই এভাবে সংগ্রাম করতে দেখা তার ভক্তদের জন্য ছিল এক মস্ত বড় ধাক্কা।
আরশাদের এই ব্যর্থতার জন্য তার অনুশীলনের ঘাটতি ও পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উপেক্ষাকেই দায়ী করা  হচ্ছে। আরশাদের দীর্ঘদিনের কোচ সালমান বাট স্বীকার করেছেন, কমনওয়েলথ গেমসে আরশাদ কোনোভাবেই তার সেরা ফর্মে ছিলেন না এবং তার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।

তার এই ছন্দপতনের জন্য আংশিকভাবে আরশাদ নিজেও দায়ী, কারণ ফাইনালের সময় তাকে শতভাগ ফিট মনে হচ্ছিল না। তবে ট্র্যাকের বাইরেও তাকে অনেক সমস্যার সাথে লড়াই করতে হয়েছে।
আরশাদের এবারের ফলাফল মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ এবারের কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে আরশাদ সুইজারল্যান্ডে মাত্র একটি ইভেন্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। এ ছাড়া তিনি কোনো বিদেশি কোচ বা ট্রেইনারের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই লাহোরের তীব্র গরমের মধ্যে একা একা অনুশীলন করে পুরো সময় পার করেন।

আরশাদ, যিনি এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ টারসিয়াস লিবেনবার্গের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, এবার তার স্থানীয় কোচ সালমান বাট এবং স্থানীয় ট্রেইনারদের সাথেই অনুশীলন করেন। আরশাদ লাহোরের তীব্র গরমে অনুশীলন করেছেন। আর গ্লাসগোর আবহাওয়া ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ফলে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগই পাননি তিনি।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে। ভারতের নীরজ চোপড়া ও যশবীর সিং যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। আরশাদ যখন লাহোরের তীব্র গরমে একা একা অনুশীলন করছিলেন, তখন তার ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা দেশের বাইরে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়েছেন। ভারতের নীরজ সুইজারল্যান্ডের বিয়েনে তার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প করেছেন। আর তার সতীর্থ রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং পোল্যান্ডের স্পালায় বিদেশি কোচ ও ট্রেইনারদের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

আরশাদের সাথে পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের মূল বিরোধটা কোচ হিসেবে সালমান বাটকে বহাল রাখা নিয়ে। এ বিরোধের জেরে পাকিস্তান অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আরশাদকে পুরোপুরি ত্যাগ করে। আরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এবং পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড এই জ্যাভলিন থ্রোয়ারের পাশে দাঁড়াননি। সূত্রটি আরো জানায়, ফেডারেশন আরশাদের প্রস্তুতি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নেয় এবং তাকে তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়। এমনকি তার প্রশিক্ষণের ব্যাপারে করা কয়েকটি অনুরোধও তারা রাখেনি। একই ভাবে, লাহোরে নিজের মতো অনুশীলনের সময়ও আরশাদকে সাহায্য করার জন্য কোনো বিদেশি কোচ বা ট্রেইনারের তহবিলের অর্থ ছাড় করেনি পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড।

পাকিস্তানের সাবেক অলিম্পিক বক্সিং ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হুসেন শাহ হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘তিনি (আরশাদ) এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন। একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন এবং একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। তারপরও নিজের স্বর্ণপদক দিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য এত গৌরব বয়ে এনেছেন। অথচ তিনি কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতিই নিতে পারলেন না। এটি আমাদের ক্রীড়া কাঠামোর একটি দুঃখজনক প্রতিফলন।’

হতাশা পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র পদকজয়ী নারী বক্সার ফাতিমা জেহরার কণ্ঠেও। ফাতিমার দাবি, আরো ভালো প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে তিনি তার ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিততে পারতেন। শেষ পর্যন্ত ফাতিমাকে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। 

অলিম্পিক রেকর্ডধারী জ্যাভলিন থ্রোয়ার নাদিম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পতাকা বহন করলেও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের পতাকা ছিল ফাতিমার হাতে। ফাতিমা কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী পদকজয়ী।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]