প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘূরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস পার্ক স্টেডিয়ামে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের করা ১৮৬ রানের জবাব দিতে নেমে ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান-তানজিদ তামিমের দারুণ জুটিতে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের ইনিংস গড়ে তোলে বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে সাইফউদ্দিনের টানা ৪ বলে ছক্কা এবং ১০ বলের ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংসই এই স্কোর গড়তে সহায়তা করে।
এরপর জয়ের জন্য ১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণির মুখে পড়ে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ৩.৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই লেগি। এছাড়া শেখ মাহদিও দারুণভাবে বল ঘূরিয়েছেন। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।
প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সিরিজে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। এমন ম্যাচে তানজীদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইয়াসির চৌধুরির ক্যামিওতে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেনের ভেলকিতে সেই লক্ষ্য টপকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। দারুণ এক জয়ে সিরিজে ফিরেছে টাইগাররা।
শুক্রবার বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান করেছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন তামিম। শেষদিকে ১০ বলে ৩১ রানের দুর্দান্ত ক্যামিও খেলেন সাইফউদ্দিন। জবাবে ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ৩ ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। শুরুর দুই বলে চার ও ছক্কা খেলেও ওভারের শেষ বলে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানিয়ে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ধাক্কা দেন তিনি। পরের ওভারে নাহিদ রানার গতিতে বোল্ড হন ব্রায়ান বেনেট। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ডিওন মেয়ার্সকে বোল্ড করে আরও চাপে ফেলে দেন মেহেদি।
চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু একাদশে ফেরা রিশাদ হোসেন নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ১২ বলে ২৮ রান করা রাজাকে। এক ওভার পর মিল্টন শুম্বাকেও সাজঘরের পথ দেখান এই লেগ স্পিনার। ৬৮ রানেই পঞ্চম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
ইনিংসের দশম ওভারে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন শেখ মেহেদি। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ক্লাইভ মাডান্ডে। চার বলে মাত্র এক রান করে ফেরেন তিনি।এরপর ব্রাড ইভান্স লড়াই করলেও সেটা শুধু ব্যবধান কমিয়েছে। ১৪ বলে জোড়া চার ও ছক্কায় ২৫ রান করেন তিনি।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ইনিংসের শুরুতেই ৮, ১৭ ও ১৯ রানে জীবন পান। পরে ৩৭ ও ৪৬ রানেও ক্যাচ ফেলেন জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা। পাঁচবার জীবন পাওয়ার পর ৪২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এই ওপেনার।
অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ৩৩ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি। সাইফ-তানজিদের ১০০ রানের জুটি আসে মাত্র ৭৩ বলে, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পঞ্চম শতরানের উদ্বোধনী জুটি।
১৫তম ওভারে সিকান্দার রাজা ভাঙেন ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি। স্টাম্পে থাকা বল স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন সাইফ। ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা।
পরের ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন রিচার্ড এনগারাভা। ৪৪ বলে ৫৮ রান করা তানজিদ বোল্ড হওয়ার পর বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তাওহীদ হৃদয়। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সও জোড়া উইকেট তুলে নেন।
পারভেজ হোসেন সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, আর শর্ট বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন নুরুল হাসান সোহান। তবে তার ওভারে ১৩ রানও আদায় করে বাংলাদেশ। আচমকা ৪১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এরপর গত ম্যাচে ফিফটি করা ইয়াসির রাব্বি ও সাইফুদ্দিন ১৯ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে শেষ ওভারের প্রথম ৪বলে টানা ছক্কা হাঁকান সাইফউদ্দিন। তার ১০ বলে ৩১ রানের সঙ্গে রাব্বি করেন ১২ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২২ রান।