বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠন যুবদলের রাজনীতিতে ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কারাভোগের অভিজ্ঞতা বরাবরই নেতৃত্ব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে যখন নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে, তখন সভাপতি পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে সামনে আসছে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতা এটিএম নজিবর রহমান লেলিনের নাম।
ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লেলিন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় তার সামনে এসেছে নানা চ্যালেঞ্জ। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে তাকে। বিভিন্ন সময়ে কুড়িগ্রাম কারাগারে থাকতে হয়েছে। শুধু কুড়িগ্রামেই নয়, রাজধানী ঢাকার কারাগারেও কারাভোগ করেছেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে অংশ নিতে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় যান এটিএম নজিবর রহমান লেলিন। ওই সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।এরপর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারে টানা ৬৫ দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে।
তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কিংবা কারাগারের অভিজ্ঞতা তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি বলে জানান তার ঘনিষ্ঠরা। তাদের ভাষ্য, আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচি, সমাবেশ এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে এটিএম নজিবর রহমান লেলিনের নাম। দলের একাংশের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং কারাভোগের অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে।
তাদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সে কারণেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে লেলিনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে এটিএম নজিবর রহমান লেলিন বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে আমি মনেপ্রাণে ধারণ করি। রাজনৈতিক জীবনে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা থাকলেও কখনো দলের প্রতি আস্থা হারাইনি। আমি শুধু আমার দলকে ভালোবেসে রাজনীতি করে গেছি।
তিনি আরও বলেন, এই হতদরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামকে এগিয়ে নিতে স্বচ্ছ ও আন্তরিক রাজনীতি প্রয়োজন। আমি যদি যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পাই, তাহলে জেলার যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক কুড়িগ্রাম গড়ে তুলতে কাজ করব। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।
কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সক্রিয় থাকার কারণে এটিএম নজিবর রহমান লেলিনের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের জন্য।