৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলকে একটা বলার মতো জায়গায় নেন জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪০.২ ওভারে এই জুটি ভেঙে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ফিফটি করা বার্টলেটকে ৫৫ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। তার ৮৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। অবশ্য বার্টলেটকে ফেরানোর পরের বলে অ্যাডাম জাম্পাকেও বোল্ড করেন তাসকিন। তাতে স্কোর ৬ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে ৮ উইকেট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। তার পর ৪২ ওভার শেষ হতেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।
দেড়শ ছাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার
৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে খেলছেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। তাদের জুটিতেই দেড়শ ছাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৩৪ ওভার শেষে অজিদের স্কোর ৬ উইকেটে ১৫৭ রান।
৬ উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে অস্ট্রেলিয়া
চতুর্থ উইকেট পতনের পর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ইংলিস। ৪৩ রান যোগ করেন তারা। কিন্তু তাদের জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি তানভীর ইসলাম। দলের ৬৮ রানে ইংলিসকে (৩৪) তানজিদ হাসানের ক্যাচ বানান তিনি। তাতে বিপদ আরও বাড়ে অস্ট্রেলিয়ার। তার পর তো আরেক সেট ব্যাটার গ্রিনকেও (২৫) ফিরতি ক্যাচে ফিরিয়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তানভীর। ২৩ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৬ রান।
এই প্রথম শূন্য রানে ৩ উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া!
টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে পেস আক্রমণে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে ছেড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওভারের মধ্যেই বিনা রানে তুলে নিয়েছে ৩টি উইকেট! প্রথম ওভারে ম্যাট শর্টকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তাতে একটা লজ্জার রেকর্ডও সঙ্গী হয়েছে অজিদের। এই প্রথম কোনও রান করেই শুরুর তিন উইকেট হারিয়েছে। সার্বিকভাবে চতুর্থ দল হিসেবে ওয়ানডেতে তারা এমন অভিজ্ঞতার শিকার।
তিন উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিস। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হতে দেননি মোস্তাফিজ। ৭.৩ ওভারে ক্যারিকে (১৩) শান্তর ক্যাচ বানিয়ে তুলে নেন নিজের তৃতীয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়া ২৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়েছে। ৮ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৫ রান।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। এদিনও টসভাগ্য সহায় হয়নি স্বাগতিকদের। টসে হেরে আগে বোলিংয়ে নেমেছে তারা। বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস।
এই ম্যাচে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে। মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবার ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
২১ বছর আগে কার্ডিফের সর্বশেষ জয়ের পর এবার প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এটি দুই দলের পঞ্চম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। এটি জিতলে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়বে তারা।
প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার। পেস আক্রমণে রাখা হয়েছে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে। স্পিন বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন।
অন্যদিকে একাদশে অতিরিক্ত পেসার যোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে খেলতে নামছেন রাইলি মেরেডিথ। তিনি পেসার লিয়াম স্কটের পরিবর্তে এসেছেন।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট শর্ট, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা, রাইলি মেরেডিথ।