প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:০০ পিএম
(ভিজিট : ২৫১)
শেরপুর সদর উপজেলার অন্তর্গত বাজিতখিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টার এখন মাদক সেবনের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮০ দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন সরকার বাজিতখিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনসাধারনকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য এটি নির্মাণ করে। তখন থেকেই এই কেন্দ্রের কর্তব্যরত উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও অন্যান্য কর্মচারীরা কোয়ার্টার এ অবস্থান করে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন ভগ্নপ্রায় দশায় পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক সেবম ও অনৈতিক কাজের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। ফলে বাজিতখিলা ও সুলতাপুরসহ আশেপাশের এলাকার উঠতি বয়সের যুবকেরা মাদক সেবনের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে এ স্টাফ কোয়ার্টার টি কে।
সরেজমিনে দেখা যায় ভবনটির বিভিন্ন কক্ষে মাদক সেবনের সময় ব্যবহৃত সরঞ্জামের উচ্ছিষ্টাংশ স্তুপাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাতে সহজেই অনুমেয় কি পরিমাণ মাদক এখানে সেবন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, ফখরুল ইসলাম লিচু বলেন, এটি এখন মাদকের নিরাপদ কারখানা। শুনেছি উঠতি বয়সের তরুণ পোলাপান ওই বিল্ডিং এ নিয়মিত মাদক খায়। এছাড়া এখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি এটি দ্রুত সংস্কার বা নির্মাণ করা হোক। "
আরেক বাসিন্দা শিবলু মিয়া বলেন, এখানে আগে ডাক্তার থাকতো। এখন কোয়ার্টারে ডাক্তার থাকে না। আমাদের খুব সমস্যা হয়। মহিলাদের ব্যথা বা অন্য কোন রোগে আমাদের সদর হাসপাতালে যেতে হয়।
বাজিতখিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সামিদুল ইসলাম বলেন, "এই কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারণে এটি বসবাসের উপযোগী না। এছাড়া এখানে কোন বাউন্ডারি ওয়াল নাই। ফলে পরিত্যক্ত ভবনে স্থানীয় উঠতি বয়সের তরুণরা মাদক সেবন করে এবং শুনেছি রাতে অসামাজিক কার্যকলাপও হয়। এখন এটি পুননির্মাণ করা হলে আমরা এখানে অবস্থান করে সেবা দিতে পারতাম। ফলে স্থানীয় মানুষ জন উপকৃত হত। "
এবিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু দাম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন," বাজিতখিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কোয়ার্টার পুননির্মাণের জন্য লিখিত ভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্টাফ কোয়ার্টার টি নতুন করে নির্মাণ সহ নিরাপত্তা দেওয়াল ও তৈরী করা হবে। আর এটি নির্মিত হলে সেখানে মাদক সেবনের ঘটনা বন্ধ হয়ে যাবে। "