কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় এবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন কেনাকাটায় রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুল্কজনিত মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যেও গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি বিক্রি হয়েছে। এআই-চালিত শপিং টুল ব্যবহার করে পণ্যের দাম যাচাই ও ছাড় নিশ্চিত করতে ক্রেতারা ব্যাপকভাবে চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন।
অনলাইন রিটেইল সাইটগুলোতে ক্রেতাদের ১ ট্রিলিয়ন ভিজিট বিশ্লেষণ করে অ্যাডোবি অ্যানালিটিক্স জানায়, এবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইনে কেনাকাটার আর্থিক মূল্য রেকর্ড ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্স জানায়, বিশ্বব্যাপী ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইন বিক্রিতে এআই ও ডিজিটাল এজেন্টের প্রভাব ছিল ১৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ।
থ্যাংকসগিভিং পালনের পরদিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলা হয়। বলা হয়ে থাকে, ক্রিসমাসকে সামনে রেখে এদিন সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা সম্পন্ন হয়। এই দাবির সত্যতা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও, ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে প্রচুর মূল্যছাড়ের কারণে বহু মানুষ বিপণিবিতান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
সেলসফোর্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইন খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলার, যা বছরওয়ারি ৩ শতাংশ বেশি। বিক্রিত পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল বিলাসবহুল পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজ।
তারা আরও জানায়, অনলাইনে বিক্রি বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের চাহিদার ওপর চাপ ফেলেছে। ক্রেতারা আগের বছরের তুলনায় খরচ বেশি করলেও, আদতে কম পণ্য কিনেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ছুটির মৌসুম শুরু হয়েছে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে। নতুন বাজেট আমূল পরিবর্তন, চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চের কাছাকাছি বেকারত্বের হার, সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোক্তা আস্থার কারণে এবং ক্রেতারা প্রতিটি ডলার খরচের আগে দুবার ভাবছেন।
মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিংপাল্স জানায়, ছুটির মৌসুমে ভোক্তারা আরও কৌশলী হওয়ায় অনলাইন চাহিদা বেড়েছে। তাদের তথ্যে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে ই-কমার্সে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে ইন-স্টোর বিক্রি বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ বছরের ব্ল্যাক ফ্রাইডের জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে ছিল—লেগো সেট, পোকেমন কার্ড, নিনটেন্ডো সুইচ ও প্লেস্টেশন ৫-এর মতো গেমিং কনসোল, এবং অ্যাপল এয়ারপডস থেকে শুরু করে কিচেনএইড মিক্সারের মতো বিভিন্ন পণ্য।