বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, “আমাদের তরুণদের কেউ যদি মাদকের অন্ধকারে নিতে চায়, আমরা তাদের ফিরিয়ে আনব খেলার মাঠে—তাদের প্রতিভা বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য। ইসলামের সৌন্দর্যের আলোতে যেমন অন্ধকার মদিনা সোনার মদিনায় পরিণত হয়েছিল, আমরা তেমন একটি সোনার বাংলাদেশ—সোনার বাউফল গড়তে চাই।”
গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বাউফল পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় বাউফল উপজেলা একাদশ এবং বাউফল পৌরসভা একাদশের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর খেলাটি গড়ায় ট্রাইবেকারে। ট্রাইবেকারে উপজেলা একাদশ বিজয়ী হয়।
খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে মাঠেই জামায়াতে নামাজ আদায় অনুষ্ঠানটির বিশেষ সৌন্দর্য যোগ করে।
খেলা শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার মো. কায়সার হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এডভোকেট আবুল কাশেম কাশেম। পরিচালনা করেন এডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া, সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা আব্দুল গনি, অধ্যাপক খালিদুর রহমান, আতিকুর রহমান নজরুল, ইসলামী ছাত্রশিবির পটুয়াখালী জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নূরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
মাঠে ছিল প্রায় অর্ধ লক্ষ দর্শকের উপচে পড়া ভিড়।
ড. মাসুদ আরও বলেন, “বিনোদনের জন্য অশ্লীলতা বা বেহায়াপনার প্রয়োজন নেই। ইসলামে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের অসংখ্য দৃষ্টান্ত। সাইমুম, কলতান, ঝংকার—এসব আমাদের ঐতিহ্যের সৌন্দর্য। যদি জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে বাউফলে একটি আধুনিক, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।”
ডাকসুর জিএস এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস. এম. ফরহাদ বলেন, “তরুণদের ভুল পথে নিতে বিভিন্ন আয়োজন করা হলেও খেলাধুলা, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তরুণ প্রজন্ম নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবর্তন এসেছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে লুটপাট ও চাঁদাবাজির স্থান থাকবে না, দেশ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আজ সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। যাকে সংসদে পাঠাবো, তিনিই গড়বেন আগামী বাংলাদেশ। অতীতে ভুল হয়েছে, আমরা ৬৯,৭১ এবং ৯০এ দেখেছি কিন্তু একটি বিশৃঙ্খল রাষ্ট্র পেয়েছি। সামনে রয়েছে নতুন সুযোগ। দেশের যে কয়জন মানুষকে নিয়ে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বিজয়ী হলে কেবল বাউফল নয়, পুরো বাংলাদেশ নতুনভাবে সাজবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”