প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম
(ভিজিট : ১১)

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অনুসন্ধান কূপ খনন করে নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের দুটি পৃথক স্তরে আনুমানিক ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত কূপটিতে সফল ফ্লেয়ার টেস্টের পর নতুন গ্যাসের মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্পের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি বরাদ্দ ও বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে কূপটিতে খননকাজ পরিচালিত হয়েছে। বাপেক্সের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘বিজয়-১০’ রিগ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করেন প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের সদস্যরা। অনুসন্ধানের লক্ষ্য করা ভূতাত্ত্বিক স্তরগুলোতে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী ২০ বছর ধরে এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় আবিষ্কৃত গ্যাসের আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান প্রকল্পের পরিচালক মো. রকিবুল হাসান জানান, কূপটির প্রকৃত সক্ষমতা নিরূপণে প্রকৌশলীরা পর্যবেক্ষণ ও ড্রিল স্টেম টেস্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ জন্য প্রায় দুই সপ্তাহের সময় নেওয়া হয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ চাপের পরিমাপের পাশাপাশি গ্যাসের প্রবাহ এবং তেলসহ অন্য কোনো হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
নোয়াখালী অঞ্চলে বাপেক্সের আগের অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন কার্যক্রমেও গ্যাসের মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কাছাকাছি সুন্দলপুর-৪ কূপের মূল্যায়নও রয়েছে। ধারাবাহিক এসব অনুসন্ধান দেশের স্থলভাগে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।