প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
(ভিজিট : ১২)
লক্ষ্য ২৪২ রান। জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ৮৮ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। গ্যালারি ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন দর্শকেরাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল পাকিস্তান। শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে উঠেছে দলটি।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের এই জয়কে এক কথায় বলা যায় রূপকথা। ৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ের নায়ক শাদাব। অন্য প্রান্তে ১৯ বল ধরে উইকেটে থেকে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন পেসার হারিস রউফ। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক রানটিও এসেছে রউফের ব্যাট থেকে।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ অবিচ্ছিন্ন জুটি। শাদাব-রউফ ভেঙেছেন ৫১ বছর আগের রেকর্ড। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ উইকেটে অপরাজিত ৬৪ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বেন ডাকেটের সেঞ্চুরির পরও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানেই অলআউট হয় দলটি। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৪ উইকেট।
ইংল্যান্ডের ইনিংসেও শেষ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। গাস অ্যাটকিনসন ও অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকম্ব দশম উইকেটে যোগ করেন ৪০ রান। সেই জুটির সুবাদে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় ইংলিশরা।
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল পাকিস্তান। জেমি ওভারটন ও অ্যাটকিনসনের পেসের পাশাপাশি লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকসের স্পিন সামলাতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। একপর্যায়ে ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শাদাব। গত জুনের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নেমেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ উইকেটে রউফকে নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। দুজনের ৮৯ রানের জুটিতে শাদাবের অবদান ৮১, রউফের ৭ রান। তবে রউফের দৃঢ়তা ও শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতাই এনে দেয় ঐতিহাসিক জয়।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে টানা তিন হারে টুর্নামেন্ট থেকে ইংল্যান্ডের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে শ্রীলঙ্কার পরের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার প্রয়োজন ইংলিশদের।
৯ উইকেট হারিয়ে যখন পরাজয় প্রায় নিশ্চিত, তখনই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। শাদাবের ব্যাটিং নৈপুণ্য আর রউফের অদম্য লড়াই ওয়ানডে ক্রিকেটে যোগ করল আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।