| শিরোনাম: |

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের স্বল্প জনবসতিপূর্ণ একটি উচ্চভূমি এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। বাকি ২১ জন সামান্য আহত হন। তবে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছের একটি গ্রামে অন্তত দুজন আহত ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পরবর্তী প্রতিবেদনে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে রাস্তায় পার্ক করা গাড়িতে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এক বাসিন্দা জানান, শক্তিশালী কম্পনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বাড়ি কেঁপে ওঠার পাশাপাশি কড়কড় শব্দ শুনতে পান তিনি।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, উপকেন্দ্রের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। ওই অঞ্চলে কম্পন বেশ জোরে অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পের পর আশপাশের এলাকায় ৩ ও ৪ মাত্রার কয়েকটি পরাঘাতও রেকর্ড করা হয়েছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।