
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সভা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সীমিত রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিতুমীর বলেন, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি দিতে পারে।
তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় একটি সমস্যা ছিল উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি। প্রকৃত দরিদ্র অনেকে বাদ পড়েছেন, আবার যোগ্য নন এমন ব্যক্তিও তালিকায় ঢুকেছেন। এ সমস্যা কমাতে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাধীন গবেষণার বিভিন্ন মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। তাঁর ভাষ্য, এসব কর্মসূচি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলেও এগুলো রাখা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো, কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি কমানো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা।
ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের আমদানি ব্যয় বাড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিতুমীর। কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।