গাজা যুদ্ধ আরো আগেই শেষ করা সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দিদেরও জীবিত ফিরিয়ে আনা যেত।
কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী ছিলেন না। এমনই অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল নিতজান অ্যালন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় অ্যালন বলেন, ইসরায়েল চাইলে যুদ্ধ প্রায় এক বছর আগেই শেষ করতে পারত। তখনই বন্দিদেরও জীবিত ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল।
কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।
অ্যালনের দাবি, যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে আনার জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন ছিল না। তার মতে, ওই চুক্তি আরো আগে হলে বন্দিদশায় মারা যাওয়া অনেক ইসরায়েলি নাগরিককে বাঁচানো সম্ভব হতো।
২০২৫ সালের অক্টোবরের চুক্তিটিকে অবশ্য অ্যালন ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার দাবি, এই চুক্তির পর হামাসের সামরিক শক্তি অনেকটাই কমেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, চুক্তিটি আগে কেন করা হলো না।
অ্যালনের অভিযোগ, ইসরায়েল সরকার পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ করার বদলে আংশিক চুক্তির পথ বেছে নিয়েছিল। এর ফলে বন্দিদের কিছু অংশ মুক্তি পেলেও গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে যায়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় একাধিক হামলা এবং ইসরায়েলি সেনার অভিযান চালানোর বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাপ না দিলে ইসরায়েল হয়তো এখনো গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যেত। অ্যালনের দাবি, বন্দিদশায় প্রায় ৪০ জন ইসরায়েলির মৃত্যু হয়েছে। তার মতে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তাদের অনেককেই জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব ছিল।
২০২৫ সালের অক্টোবরের চুক্তিতে ২০ জন ইসরায়েলি বন্দির বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিবিদ অ্যালান পিঙ্কাসও মনে করেন, এই চুক্তি আরো আগে করা সম্ভব ছিল। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পরপরই বন্দিবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর বন্দিদের দেশে ফেরানো ছিল একটি বড় ব্যর্থতা এবং ট্র্যাজেডি।
তবে অ্যালনের অভিযোগ মানতে নারাজ নেতানিয়াহুর দল। দলের পক্ষ থেকে পালটা বলা হয়েছে, অ্যালন আসলে হামাসের শর্ত মেনে ইসরায়েলকে আত্মসমর্পণের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।