পুরান ঢাকার ওয়ারিতে আটতলা ভবন এবং নয়তলার ছাদে রুফটপ রেস্তোরাঁ নিয়ে আধুনিক, স্বল্পব্যয়ের ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে ‘আমারচেম্বার’। পুরান ঢাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রগামী ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে।
আমারচেম্বারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অনলাইন ও সরাসরি বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে পাঁচজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল সেবা দেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ, অস্ত্রোপচার, রক্তের ব্যবস্থা ও সংগ্রহ, প্যাথলজি পরীক্ষা, বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো এবং ভর্তি সহায়তাও থাকবে।
হঠাৎ কোনো শিশুর হাত কেটে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে রক্তনালি, স্নায়ু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু পুনর্গঠনের অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে দেশের ১৫ জন অভিজ্ঞ অধ্যাপক চিকিৎসাসেবায় নেতৃত্ব দেবেন।
নারীদের জন্য থাকবে পৃথক তলা ও অস্ত্রোপচার কক্ষ। পর্দা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নারী সার্জন, অবেদনবিদ, নার্স ও কর্মীদের মাধ্যমে পাইলস, পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ, প্রসূতি সেবা এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক অস্ত্রোপচার করা হবে।
প্যাথলজি বিভাগে হরমোনসহ জটিল পরীক্ষার পাশাপাশি থাকবে ডিজিটাল এক্স-রে, চার মাত্রার আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিভিএস, এন্ডোস্কোপি ও কোলনোস্কোপি। ভবিষ্যতে আইসিইউ, এনআইসিইউ, এমআরআই ও সিটিস্ক্যান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফিজিওথেরাপি, স্টেমসেল ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে জাপানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পুরো কার্যক্রম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রোগীর নিবন্ধন, চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষা, বিল, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসাসেবা থাকবে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায়। ব্যাংক হিসাব ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
রোগী ও একজন স্বজনের খাবারের সুবিধা, স্বল্পমূল্যের খাবার, চিকিৎসকদের বিশ্রাম ও বিনোদন ব্যবস্থা, কর্মীদের সন্তানদের পরিচর্যা কেন্দ্র এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে। ছাদের রেস্তোরাঁকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের আতিথেয়তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা চিকিৎসক ডা. অপূর্ব পন্ডিত বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি হাসপাতাল তৈরি করা নয়; পুরান ঢাকার মানুষের জন্য সহজলভ্য, আধুনিক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
তিনি জানান, ‘আমারচেম্বার’-এর ধারণাটি নতুন নয়। ২০১৬ সালে অনলাইন ও ক্লিনিক্যাল বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ২০১৭ সালে ডয়চে ভেলের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতিযোগিতায় ‘আমারচেম্বার’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ১০-এ স্থান পেয়েছিল।
গর্বিত অংশীদার হওয়ার আহ্বান
ডা. অপূর্ব পন্ডিত বলেন, “আপনি যদি দেশপ্রেমিক, মানবতাবাদী, আধুনিক ও যুক্তিবাদী হন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অ্যাপে পরিচালিত বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্নে অংশ নিতে চান, তাহলে আমারচেম্বারের গর্বিত অংশীদার হওয়ার সুযোগ এখন আপনার হাতের মুঠোয়।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের কাছে অর্থ শুধু ব্যক্তিগত মুনাফার বিষয় নয়, মানুষের কাজে ব্যয় করাও একটি দায়িত্ব—আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাই। আপনার বিনিয়োগ হোক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি এবং একটি মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের অংশ।”