প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের প্রধান কারণ গুজব, গুঞ্জন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন। এর জন্য গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নিয়মিত আয়োজন ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’-এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসসচিব বলেন, বর্তমানে অনলাইন পোর্টাল, পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
এসব তথ্য শুধু সরকারকে বিব্রত করছে বা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং অনিবন্ধিত অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য, গুজব, গুঞ্জন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো তথ্য প্রথমে প্রকাশিত হলে মানুষ আতঙ্কিত হতে পারে। তবে তথ্যটি জানার ও যাচাই করার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সালেহ শিবলী বলেন, এখন কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা দেখার পর অনেক ক্ষেত্রেই প্রথমে প্রশ্ন করে—এটি সত্য কি না। অতীতে কোনো সংবাদমাধ্যম বা জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে কোনো বক্তব্য বা উদ্ধৃতি প্রচার করা হলে অনেকে তা সহজেই বিশ্বাস করতেন এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতেন। এখন মানুষ জানে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বট, কৃত্রিম লাইক-শেয়ার এবং মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সম্ভব। ফলে কোনো তথ্য দেখলেই সেটি সত্য কি না, তা নিয়ে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাবছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মানুষের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আসছে এবং মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে। এই সচেতনতা আরো বাড়াতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি ফ্যাক্টচেক অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এর নাম ‘ফ্যাক্টচেক’ বা ‘সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাই’-যাই হোক না কেন, এমন একটি আয়োজন প্রয়োজন, যাতে মানুষ সারা দিন দেখা ও শোনা বিভিন্ন তথ্য রাতে যাচাই করে নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, তিন মাস যদি এমন একটি অনুষ্ঠান কোনো একটি টেলিভিশনে চলে, কিংবা অন্তত সবগুলো টেলিভিশনে চলে, দেখবেন জনগণ এমনিতেই সচেতন হয়ে যাবে। আর যারা মিসইনফরমেশন-ডিসইনফরমেশনের এই ব্যবসা খুলে বসেছেন, তারাও নিজেদের গুটিয়ে নেবেন।’