প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পিএম
(ভিজিট : ১১)
কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জীবনসঙ্গী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আসেন। এরপর ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীর মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মরদেহ গোসল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ সময়গুলোতে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হতো।
কিছুদিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ব্যারিস্টার নেওয়াজকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত মে মাসেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তিনি।
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্যিক বিরোধ ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন এবং এর প্রতিষ্ঠালগ্নে ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আইন পেশার পাশাপাশি তার ক্লাসিক্যাল সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল এবং তিনি একজন ভালো বংশীবাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর লেখালেখিও করেছেন।